নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পাণ্ডুয়া ব্লকজুড়ে পানীয় জলের উৎস তৈরির মেগাপ্রকল্প হাতে নিয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি। প্রায় প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক নয়া পানীয় জলের উৎস তৈরি হবে। সরকারি অফিস থেকে স্কুল, বাজার থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল রাস্তার মোড়ে এ কাজ হবে। পাশাপাশি যে সমস্ত জায়গায় পানীয় জলের উৎস আছে সেগুলি উন্নত করে তোলার জন্য জল পরিশুদ্ধ করার বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি। পাণ্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, মেগা ওই প্রকল্প কয়েকটি ধাপে রূপায়ণ করা হবে। ইতিমধ্যেই আধুনিকীকরণ ও নতুন উৎস তৈরির কাজে সমিতি নেমে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, নতুন উৎসগুলি জলসত্রের আদলে তৈরি হবে। পানীয় জলের ট্যাঙ্ক, জল তোলার ব্যবস্থা, জল পরিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা থাকবে। আর পুরনো উৎসগুলিতে জল পরিশুদ্ধ করার আধুনিক মেশিন বসবে। পাণ্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ময়না মাঝি বলেন, নাগরিকদের মতামত নিয়ে উন্নয়নের একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছে। সেখান থেকেই পঞ্চায়েতজুড়ে নতুন পরিশুদ্ধ পানীয় জলের উৎস তৈরি এবং পুরনো উৎসগুলির আধুনিকীকরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ ও পাণ্ডুয়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি আনিসুল ইসলাম বলেন, পাণ্ডুয়া দু’টি জেলার মধ্যবর্তী এলাকা। অনেকটা ছড়িয়ে থাকা গ্রামীণ অঞ্চল। ফলে মানুষকে যেমন দূরদূরান্তে যাতায়াত করতে হয় তেমনই হুগলি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পাণ্ডুয়াতে আসেন। হুগলি থেকে বর্ধমান, কালনা যেতেও পাণ্ডুয়াকে ব্যবহার করতে হয়। একদিকে জন ঘনত্ব অন্যদিকে জনবহুল ব্লক হওয়ায় পানীয় জলের বহু উৎস তৈরির দাবি স্বাভাবিক। আমাদের পঞ্চায়েত সমিতি সেই নাগরিক দাবিকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
ওই মেগাপ্রকল্প যাতে সর্বসাধারণের চাহিদা মেটাতে পারে, সেদিকে নজর রেখে তৈরি করা হয়েছে। সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, জনপ্রিয় খেলার মাঠ, গ্রামীণ জনসমাগম যেখানে বেশি হয়, আবার যেখানে অনেকটা এলাকাজুড়ে জলের উৎস নেই, তেমন জায়গা নতুন প্রকল্পের জন্য বাছা হয়েছে। অন্যদিকে আধুনিকীকরণের তালিকায় প্রাইমারি, হাইস্কুল, সরকারি অফিস, গ্রামীণ হাসপাতাল আছে। নতুন প্রকল্পের প্রতিটির জন্য প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এটি ব্লকের একটি স্বপ্নের প্রকল্প। এই কাজে অর্থের অভাব হবে না।