নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ সোমবার বিকেলে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে চারটি কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে আছে সরকারি কর্মী মহল। গত শুক্রবার রাজ্য সরকারের পেনশনার ও পারিবারিক পেশনশন প্রাপকদের একটা অংশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পঞ্চম বেতন কমিশনে সুপারিশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র বাকি থাকা টাকা পাঠানো হয়। সোমবারের বৈঠকে যে চারটি সংগঠন ডাক পেয়েছে, তারা সবাই পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলায় অংশ নিয়েছিল। তাহলে কি সরকার শুধু ওই বকেয়া ডিএ নিয়েই আজ আলোচনা করতে চাইছে, সেই প্রশ্নও কর্মী মহলে উঠেছে। তবে বৈঠকে ডাক পাওয়া সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এখন যে ৪২ শতাংশ ডিএ বকেয়া আছে তা মেটানো এবং সপ্তম বেতন কমিশন কবে গঠিত হবে, সেটাও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরা জানতে চাইবেন। মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই বেতন কমিশন গঠন অনুমোদন করলেও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।
বৈঠকে ডাক পাওয়া ডিএ কেসের মূল মামলাকারী কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করে তার সুপারিশ কার্যকর করার আগে এখন ষষ্ঠ কমিশন অনুযায়ী যে ৪২ শতাংশ ডিএ সবর্ভারতীয় মূল্যসূচক অনুযায়ী বকেয়া আছে তা মেটাতে হবে সরকারকে। কীভাবে এই বিরাট বকেয়া মেটানো হবে সেটাও তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইবেন। বেতন কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তিও দ্রুত জারি করার দাবি জানানো হবে। কারণ নিয়ম অনুযায়ী ওই কমিশনের সুপারিশ চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা। বিগত সরকার চারবছর দেরি করে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার কারণে কর্মী ও পেনশনারদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয় বলে অভিযোগ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পঞ্চম বেতন কমিশনের যে বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া চলছে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। মলয়বাবু ও জাতীয়তাবাদী পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান আহ্বায়ক মনোজ চক্রবর্তী জানান, সরকারি আর্থিক অনুদানে চলা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা এখনো বকেয়া ডিএর দুটি কিস্তির একটিও পাননি। এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা আছেন। বৃহত্তর কলকাতায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে এমন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা এখনো বকেয়া ডিএ পাননি। বর্তমান সরকারি কর্মীদের এখনো পর্যন্ত যা বকেয়া দেওয়া হয়েছে, তা মোট প্রাপ্যর অর্ধেকেরও কম। শুধু গ্রুপ ডি কর্মীদের বকেয়া টাকা স্যালারি অ্যাকাউন্টে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গত সরকার। বাকি ৩ শ্রেণির কর্মীদের প্রাপ্য জিপিএফ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। এসব প্রসঙ্গ বৈঠকে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন কনফেডারেশনের নেতা।