Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

প্রতিদিন উধাও লক্ষ লক্ষ টাকার ওষুধ-ইঞ্জেকশন, ভুয়ো রোগী! টার্গেট কলকাতার পাঁচ মেডিকেল কলেজই

মঙ্গলবার যিনি রজত সুকুল, বুধবার তিনিই শরদিন্দু মাহাত। বৃহস্পতিবার তিনি আসগার আলি। শুক্রবার নাম পালটে মহম্মদ নিজামুদ্দিন। ঘটনা সিনেমাকেও হার মানাবে!

প্রতিদিন উধাও লক্ষ লক্ষ টাকার ওষুধ-ইঞ্জেকশন, ভুয়ো রোগী! টার্গেট কলকাতার পাঁচ মেডিকেল কলেজই
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: মঙ্গলবার যিনি রজত সুকুল, বুধবার তিনিই শরদিন্দু মাহাত। বৃহস্পতিবার তিনি আসগার আলি। শুক্রবার নাম পালটে মহম্মদ নিজামুদ্দিন। ঘটনা সিনেমাকেও হার মানাবে! বছরের পর বছর তাই চলছে শহরের পাঁচ মেডিকেল কলেজে। 

Advertisement

অভিযোগ, নাম ভাঁড়িয়ে আউটডোরে দেখিয়ে রোজ লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি ওষুধ ও ইঞ্জেকশন ‘হাওয়া’ করে দিচ্ছে ‘ভুয়ো’ রোগীরা। তাদের বাহিনীর কোনো সদস্য সোমবার মেডিকেল কলেজের মেডিসিনে দেখিয়ে আউটডোর ফার্মাসি থেকে সুগারের একমাসের সরকারি ওষুধ তুলে নিচ্ছে। মঙ্গলবারই সে নাম পালটে হাজির হচ্ছে ন্যাশনালের মেডিসিনে। রোগী সেজে সেখান থেকে সংগ্রহ করছে কোলেস্টেরলের এক মাসের ওষুধ। তখন তারই সঙ্গী হয়তো এনআরএস-এ রোগী সেজে ডাক্তার দেখিয়ে ফার্মাসি থেকে নিচ্ছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে গ্যাস-অম্বলের ওষুধ! 
সোমবার দুপুর। মেডিকেলের ৩ নম্বর গেটের সামনে আউটডোর। তিনতলায় মেলে ওষুধ। একতলা থেকে তিনতলার সিঁড়ি ঘেঁষে ছিল সাপের মতো লাইন। ডাক্তার দেখানোর থেকে যেন ওষুধ নেওয়ার চাহিদাই বেশি! 
এই দু’নম্বরি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসায়। রাজ্য অসংখ্য দামি ওষুধ ও ইনসুলিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রোগীদের দেয়। তারই অন্যায় ফায়দা নিচ্ছে কিছু ভুয়ো রোগী। সোমবার মেডিকেলের আউটডোর টিকিট কাউন্টারের এক কর্মী বলেন, ‘কে বুঝছে যে টিকিট কাটছে, তার আসল নাম রামপদ বড়াল নাকি লক্ষণ সাঁপুই! ইনডোরে ভরতির মতো আউটডোরে দেখানোর সময় তো আধার পুট করা বাধ্যতামূলক নয়!’ আউটডোরের এক ফার্মাসিস্টের কথায়, বেশ কিছু রোগী নিজেদের পুরানো চিকিৎসার কাগজ দেখাতে গিয়ে আর জি কর, ন্যাশনাল, কখনও এন আর এস-এর টিকিট বের করে ফেলছেন। যিনি একই রোগের জন্য আউটডোরে দেখাতে আসেন, তিনি সচরাচর পাঁচ জায়গায় দৌড়ান না! এক খ্যাতনামা সরকারি চিকিৎসক বলেন, ‘স্বাস্থ্যভবনের একাধিক মিটিংয়ে বলেছি, একটা কিছু করুন। ফ্রি মেডিসিনের অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে দুষ্টচক্র।’ একাধিক মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকের মত, এর পিছনে রয়েছেন বিভিন্ন জেলার বেশ কিছু গ্রামীণ চিকিৎসক। তাঁরা টাকার লোভ দেখিয়ে ভুয়ো রোগীর বাহিনী তৈরি করেছে। সংগৃহীত ফ্রি ওষুধগুলি গুঁড়ো গুঁড়ো করে পুরিয়া করে বিক্রি করছে। এক মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধানের মতে, এখন জাল প্যাকেজিং, লেভেলিং জলভাত! এসব ওষুধ, ইঞ্জেকশন তার দৌলতে মার্কেটে ফিরে আসাও অস্বাভাবিক নয়! বড় মাথাও থাকতে পারে।  
পোড় খাওয়া কর্মী-আধিকারিকদের মতে, আউটডোরে দেখানো আধার নির্ভর করলেই ছুটে যাবে জারিজুরি। ইউনিক আইডিতে ক্লিক করলে বেরিয়ে পড়বে, রোগী কত জায়গা থেকে কবে, কী ওষুধ নিয়েছে! গ্রামীণ চিকিৎসকদের অন্যতম সংগঠন প্রোগ্রেসিভ মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অব ইন্ডিয়ার উপদেষ্টা ডাঃ তরুণ মণ্ডল বলেন, ‘তদন্ত হোক। দোষীরা আইনানুগ শাস্তি পাক।’ মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, ‘বহুদিন ধরে এ ঘটনা কানে আসছে। সরকার যদি আউটডোরে দেখানো আধার নির্ভর করতে বলে, তাই করব। তবে আধার আনতে ভুলে গেলে চিকিৎসার অধিকার থেকে যাতে বঞ্চিত না হন, সেটাও দেখতে হবে।’ দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘সুগারের চিকিৎসায় এই অভিযোগ বেশি পাচ্ছি। আধার নির্ভর আউটডোর টিকিট ব্যবস্থার সিস্টেম প্রস্তুত। সরকার সম্মতি জানালেই শুরু হবে।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ