ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর কিশোরের মৃত্যুতে উত্তপ্ত মেডিকেল, ধুন্ধুমার
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরপর দু’টি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই ছটফট করে মারা যায় ছেলে। হাওড়ার আন্দুল রোডের বকুলতলার বাসিন্দা এক মায়ের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হল কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, ১১ বছরের ওই নাবালকের নাম পবন যাদব। তার মা পুনম যাদবের অভিযোগ, রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রচণ্ড পেটে ব্যথার জন্য ছেলেকে নিয়ে আসেন মেডিকেলের পেডিয়াট্রিক ইমার্জেন্সিতে। দুজন জুনিয়র ডাক্তার পরপর দুটি ‌ইঞ্জেকশন দেন তাকে। তারপরই সে থরথর করে কাঁপতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পবনের বাবা নরেশ যাদব বলেন, ‘পেটের যন্ত্রণা ছাড়া ছেলের আর কোনো সমস্যা ছিল না। হেঁটে ইমার্জেন্সিতে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই অবস্থা।’ তাঁরা ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। হাসপাতালের সুপার তথা উপাধ্যক্ষকে চিঠি লিখে তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে অনড় বাড়ির লোকজন দীর্ঘক্ষণ দেহ নিতেও অস্বীকার করে। তাঁদের আরও প্রশ্ন, ঘটনার সময় সিনিয়র ডাক্তাররা কোথায় ছিলেন? তবে মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর, নাবালকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আজ, সোমবার ময়নাতদন্ত করা হবে।

Advertisement

এদিকে, মৃত্যুর খবর আসতেই পবনের বাড়ির লোকজন ও পাড়া-প্রতিবেশী অনেকে পেডিয়াট্রিক ইমার্জেন্সিতে ঢুকে পড়েন। সেখানেই তুমুল চিৎকার চেঁচামিচি শুরু করে দেন তাঁরা। এই সময় একজন ইন্টার্নকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন মেডিকেলের জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁরা‌ জানিয়েছেন, মর্মান্তিক ঘটনা। তদন্ত হোক। যদি কারও দোষ থাকে, শাস্তি দিক সরকার। কিন্তু কাউকে যেন বলির পাঁঠা না করা হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তাদের সঙ্গে বচসা, হাতাহাতি শুরু হয়ে যায় মৃতের বাড়ির লোকজনের। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ মারধর ও লাঠিচার্জ করেছে। যদিও পুলিশের পালটা দাবি, নাবালকের পরিবারের লোকজনই রণং দেহি হয়ে পুলিশকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যতটুকু বলপ্রয়োগ করা দরকার, ততটাই করা হয়েছে। সন্ধ্যায় মেডিকেলে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। অধ্যক্ষ ডাঃ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি হচ্ছে। ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,  নাকি পেটের কোনো অসুখ বা বিষক্রিয়া, নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, সব খতিয়ে দেখা হবে। সকাল ১০টা ৪০ নাগাদ যখন ঘটনাটি ঘটে, সেই সময় সিনিয়র ডাক্তাররা ছিলেন। তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তাও দেখা হচ্ছে।’