নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: আগেই দু’বার আধিকারিকরা গিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তৃতীয়বার সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে ফের বাঁকুড়া শহরে বিরিয়ানির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস ডাঁই করে রাখার চিত্র ধরা পড়ল। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর শহরের খাবারের দোকানগুলিতে যৌথ অভিযান চালায়। তাতেই একাধিক অব্যবস্থা নজরে পড়ে। একটি বিরিয়ানি দোকানে গিয়ে আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ হয়। ছত্রাকযুক্ত বাঁশের ঝুড়িতেই বিরিয়ানির জন্য আগাম সিদ্ধ করা মুরগির মাংস রাখাছিল। দোকান কর্মীদের থাকার জায়গায় বিছানা-বালিশের পাশেই ওই ঝুড়ি রাখাছিল। আধিকারিকরা তা দাঁড়িয়ে থেকে নষ্ট করিয়ে দেন। বারবার বলার পরেও ব্যবসায়ীরা একই কাজ করলে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে বলে আধিকারিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) চিরন্তন প্রামাণিক বলেন, ওই বিরিয়ানির দোকানের মালিক সহ একাধিক হোটেল ও রেস্তরাঁর কর্ণধারকে নোটিস পাঠিয়ে সাতদিনের মধ্যে অফিসে গিয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আমরা এবার জরিমানার পথে হাঁটব।
বিরিয়ানি দোকানের মালিক বলেন, আগামী দিনে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী রান্না ও সংরক্ষণ করা হবে। নোটিসের উত্তর যথাসময়ে আমরা প্রশাসনকে জানাব।
ওইদিন বাঁকুড়া শহরের কাটজুড়িডাঙা এলাকায় পরপর হোটেল রেস্তরাঁয় আধিকারিকরা হানা দেন। তাঁরা শহরের চকবাজারেও অভিযান চালান। রেস্তরাঁয় স্যালাডের জন্য কেটে রাখা শসা, গাজরে ছত্রাক জন্মে যাওয়ার বিষয়টি আধিকারিকরা লক্ষ্য করেন। চপ, কাটলেটের জন্য রান্নাঘরে তৈরি করে রাখা আলুর মণ্ড, বিরিয়ানির চিকেন চাপের গ্রেভি থেকেও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। আধিকারিকরা সেই সব ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। একটি ঝাঁ-চকচকে হোটেলের আইসক্রিমে পোকা লক্ষ্য করা যায়। কাটজুড়িডাঙা থেকে আধিকারিকরা গোবিন্দনগরে যান। সেখানে দু’টি রেস্তরাঁয় গিয়ে আধিকারিকরা তাজ্জব বনে যান। একটি রেস্তরাঁয় ফ্রিজে রাখা মাছের পিস কালো হয়ে গিয়েছে। সেগুলি কবেকার তা দোকানের কর্মীরাও জানাতে পারেননি। বাসি মাছ কড়া করে ভেজে নানা পদ তৈরি করা হয় বলে কর্মীরা আধিকারিকরা জানান। অন্য রেস্তরাঁর বাসন ধোয়ার জায়গা দেখে এক আধিকারিক কার্যত বমি করে ফেলেন। ওই জায়গা এতটাই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত ছিল, যে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছিল না। রেস্তরাঁগুলিতে থাকা বেশিরভাগ মশলার প্যাকেটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিরিয়ানির দোকানটিতে বাসি ও পচা মাংস বিরিয়ানির সঙ্গে দেওয়া হচ্ছিল বলে ওই দোকানে থাকা ক্রেতারাও অভিযোগ তুলেছেন। বিরিয়ানি সহ অন্যান্য খাবারে দেদার নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হচ্ছিল। আধিকারিকরা সেই সবও নষ্ট করে দেন। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ওই বিরিয়ানি দোকানে এর আগে আমরা দু’বার পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সতর্ক করেও যে কোনো কাজ হয়নি তা ছত্রাকযুক্ত ঝুড়িতে মাংস রাখার ঘটনাতেই বোঝা যাচ্ছে। এবার আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমরা আগামী দিনে অভিযানের ঝাঁজ আরো বাড়াব। তাছাড়া ক্রেতারা ‘ফুড সেফটি কানেক্ট অ্যাপে’ প্রমাণ সহ অভিযোগ জানাতে পারেন। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন থাকবে।