Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

মোদির মুখে ফের আমিত্ব, বিমা সখী প্রকল্প নিয়ে এবার ডঙ্কা

মোদির মুখে ফের আমিত্ব, বিমা সখী প্রকল্প নিয়ে এবার ডঙ্কা
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ফের আমিত্বে ফিরলেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। ২০২৪ সালের আগে পর্যন্ত তিনি সভা-সমাবেশে বলতেন যে, গত ১০ বছরে তিনিই সব করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর প্রথম কয়েকমাস সেই প্রবণতায় ভাটা পড়েছিল। আমিত্ব থেকে সরে এসে এনডিএ জোটের জয়গান শুরু করেছিলেন তিনি। এবার আবার পুরনো ভূমিকায় ফিরলেন মোদি। সোমবার হরিয়ানার পানিপথে মহিলাদের জন্য বিমা সখী প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, আগে দেশের মহিলাদের রান্নার গ্যাস ছিল না। আমি উজ্জ্বলা গ্যাস দিয়ে মহিলাদের স্বপ্ন পূরণ করেছি। আগে মহিলাদের কাছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না। আমি এসে জন ধন যোজনা দিয়েছি। আগে মেয়েদের নিজের রোজগার ছিল না। আমি নমো ড্রোন দিদি প্রকল্প চালু করেছি। এবার হচ্ছে বিমা সখী প্রকল্প। বহু বছর ধরে মহিলাদের স্বপ্ন ছিল সংসদ-বিধানসভায় সংরক্ষণ। আমার সৌভাগ্য, সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। 
Advertisement
যেদিন মোদি এই দাবি করেছেন, সেদিনই সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, মোদির নিজের রাজ্য গুজরাতে জন ধন অথবা অটল পেনশন যোজনার মতো যাবতয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে সাফল্য তলানিতে। পশ্চিমবঙ্গে যেখানে সাড়ে ৫ কোটির বেশি  জন ধন অ্যাকাউন্ট, গুজরাতে সেখানে ১ কোটির সামান্য বেশি। গুজরাতের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা ঝাড়খণ্ডের চেয়েও কম। অটল পেনশন যোজনায় গুজরাতে উপভোক্তা ২৫ লক্ষের কিছু বেশি। বাংলায় সেখানে প্রায় ৫৫ লক্ষ। প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার ক্ষেত্রেও বাংলার থেকে অনেক পিছিয়ে গুজরাত। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলে থাকেন, বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলি রাজনৈতিক কারণে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় না। অথচ দেখা যাচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যের হাল বিশেষ করে মোদি-শাহের রাজ্যের হালই বেশি খারাপ। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেসব রাজ্য যথাবিহিতভাবে চালু করতে পারেনি অথবা কম করেছে, তারা কেন সবথেকে বেশি কেন্দ্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পের ভাগ পাচ্ছে? ভোটের আগে বা পরে কেন লাগাতার প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে? অথচ বাংলা সহ কয়েকটি রাজ্য প্রকল্প রূপায়ণে এগিয়ে থাকলেও কেন্দ্রীয় সহায়তা পায়নি। অর্থ কমিশনের ফর্মুলায় সকলের প্রাপ্য একই ধাঁচে হলেও বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। ষোড়শ অর্থ কমিশনকে সেই নালিশ প্রতিটি বিরোধী রাজ্য জানিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ