নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ঘড়ির কাঁটায় তখন ভোর সাড়ে পাঁচটা বাজে। আলো ফুটেছে। বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে মধ্যমগ্রামের গীতশ্রী মোড়ের স্ট্যান্ডে আসেন চালক হারাধন হালদার। চা খেয়ে গাড়ির উপরে উঠে বসেন। হঠাৎই গলি দিয়ে এক মাঝবয়সি ব্যক্তি এলেন। কিছুটা দূর থেকে তিনি হারাধনকে বললেন, ‘ভাড়া যাবে? দুই মহিলা ওখানে দাঁড়িয়ে আছে, চলে যাও।’ গাড়িটি ঘুরিয়ে ওই মহিলাদের দিকে যেতেই উধাও ‘রহস্যজনক’ সাদা জামার সেই ব্যক্তি। মুহূর্তের মধ্যে কীভাবে সে মিলিয়ে গেল, কোন দিকেই বা গেল তা বুঝে উঠতে পারলেন না ভ্যান চালক। ১৩০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে দুই মহিলা ও ব্যাগটাকে দোলতলাতে নামিয়ে দিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু তারপরই বেলা যত বেড়েছে, হাড়হিম করা ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়েছে। সেকথা কানে যেতেই বুকের ভেতরটা শুকিয়ে গিয়েছিল হারাধনের।
Advertisement
মঙ্গলবার কলকাতার কুমোরটুলি এলাকায় বীভৎস দৃশ্যের সাক্ষী থাকে মানুষ। মধ্যমগ্রামের বীরেশ পল্লি থেকে পিসিশাশুড়ি সুমিতা ঘোষের দেহ কেটে ব্যাগবন্দি করে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয় ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতি ঘোষ। ইতিমধ্যে নর্থ পোর্ট থানার পুলিসকে জেরাতে খুনের কথা স্বীকার করেছে তারা। মধ্যমগ্রাম দোলতলা থেকে তারা একটি ট্যাক্সিতে করে কুমোরটুলি আসে। কিন্তু এই ভ্যান ভাড়ার জন্য ‘সুপারিশ’ করা সেই ব্যক্তিটি কে, তা নিয়েই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। ভ্যানচালক হারাধন হালদারের কথায়, আচমকা সেই ব্যক্তি চলে আসে। আনুমানিক ওর বয়স হবে ৪০ থেকে ৪৫ বছর। পরনে ছিল ফুল প্যান্ট ও সাদা জামা। একেবারেই সাদামাটা পোশাকেই ছিল সে। কেবল দু’টি কথা বলেই সে চলে যায়। আমি ভ্যান ঘুরিয়ে মহিলাদের দিকে যাওয়ার আগেই ওকে আর
দেখতে পাইনি। এই ঘটনার সঙ্গে ওর যোগ আছে কি না, তা জানি না। হারাধন আরও বলেন, আমি ভ্যান নিয়ে ওদের বাড়ির সামনে আসি। বাইরে থাকা ব্যাগটি আমিই ভ্যানে তুলেছিলাম। এত ভারী দেখে জিজ্ঞাসা করতে বলেছিল, কাঁসার বাসনপত্র আছে। ভ্যানের সামনের দিকে দু’জন বসেছিল। মাঝখানে রাখা ছিল নীল রঙের ব্যাগটি। দোলতলায় নামিয়ে দিয়ে ভাড়া নিয়ে চলে আসি। তবে, ভ্যানের যাত্রাপথে একটা কথাও বলেনি মা-মেয়ে। এরপর হারাধন অবশ্য বলছেন, পুলিস আমাকে জেরা করেছে। যেটা সত্যি, আমি বলে দিয়েছি। হারাধনের কথার সূত্র ধরে পুলিস সেই ব্যক্তিকে খুঁজছে।
দেখতে পাইনি। এই ঘটনার সঙ্গে ওর যোগ আছে কি না, তা জানি না। হারাধন আরও বলেন, আমি ভ্যান নিয়ে ওদের বাড়ির সামনে আসি। বাইরে থাকা ব্যাগটি আমিই ভ্যানে তুলেছিলাম। এত ভারী দেখে জিজ্ঞাসা করতে বলেছিল, কাঁসার বাসনপত্র আছে। ভ্যানের সামনের দিকে দু’জন বসেছিল। মাঝখানে রাখা ছিল নীল রঙের ব্যাগটি। দোলতলায় নামিয়ে দিয়ে ভাড়া নিয়ে চলে আসি। তবে, ভ্যানের যাত্রাপথে একটা কথাও বলেনি মা-মেয়ে। এরপর হারাধন অবশ্য বলছেন, পুলিস আমাকে জেরা করেছে। যেটা সত্যি, আমি বলে দিয়েছি। হারাধনের কথার সূত্র ধরে পুলিস সেই ব্যক্তিকে খুঁজছে।



