নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৩ জানুয়ারি হরিদেবপুর থানা এলাকার ডায়মন্ড পার্কে ভাড়াবাড়িতে গলা কাটা অবস্থায় গৃহবধূর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম ছায়া সর্দার। তদন্তে নেমে মৃতের স্বামী কার্তিক সর্দারকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে হরিদেবপুর থানার পুলিস। প্রায় সপ্তাহ দু’য়েক কেটে গেলও হদিশ মেলেনি পলাতক অভিযুক্তের। তার অন্যতম কারণ মোবাইল ছাড়াই ঘটনাস্থলে আসে সে। ২৩ জানুয়ারি সকালে স্ত্রীকে খুন করে চম্পট দেয়। এরপরে আর নিজের নামে কোনও সিম কার্ড কেনেনি কার্তিক। তদন্তকারীরা বোঝার চেষ্টা করছেন, খুনের পর পুলিসের নজর এড়াতেই কি মোবাইল ছাড়া ঘটনাস্থলে এসেছিল অভিযুক্ত?
Advertisement
প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, সাতকুলে কেউ নেই কার্তিকের। তার দূর সম্পর্কের কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন। কিন্তু, শেষ ২-৩ বছরে তাঁদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই যুবকের। বিয়ের কয়েকমাস পরেই ডায়মন্ড পার্কে ভাড়া বাড়িতে আসেন। ১৭ জানুয়ারি সেখানেই থাকতে শুরু করেন যুগল। ২০ তারিখ থেকে বাড়িতে ছিলেন না কার্তিক। তার আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত সে। কিন্তু, ঘটনার পর মৃতা ছায়ার ফোন ডিটেলস রেকর্ড খতিয়ে দেখেন হরিদেবপুর থানার পুলিস আধিকারিকরা। কিন্তু, শেষ দু’দিনে তাঁর মোবাইলে স্বামী ফোন করেননি। এরপর স্বামীর মোবাইল নম্বরের লোকেশন ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিস। কিন্তু, দেখা গিয়েছে, ঘটনার দিন সেই মোবাইলের লোকেশন ডায়মন্ড পার্কে ছিলই না। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হয় পুলিসের। তাহলে কি সন্দেহভাজনের তালিকায় কার্তিক নেই। পরবর্তী তদন্তে পুলিস নিশ্চিত হয় ওই বাড়িতে আর কারও যাওয়া-আসা ছিল না। স্বামীই গৃহবধূকে হত্যা করেছে বলে কার্যত নিশ্চিত তদন্তকারীরা।
পুলিস তদন্তে জেনেছে, খুনের পর কার্তিকের বায়োমেট্রিক আর ব্যবহার হয়নি। অর্থাৎ, নিজের নামে নতুন সিম কেনেনি অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে কোনও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত লেনদেনও করা হয়নি। তাঁর পুরনো মোবাইল নম্বরের সঙ্গে কোনও ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টও নথিবদ্ধ নেই। ২৩ জানুয়ারির পর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে কোনওভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি ফেরার কার্তিক। সেখানেই সমস্যায় পড়েছেন দুঁদে তদন্তকারীরা। ২০২২ সালে ভবানীপুরের জোড়াখুনের ক্ষেত্রেও একইরকম প্রযুক্তি-উদাসীনতার জেরে মাস্টারমাইন্ড দীপেশ শাহ এখনও ফেরার। এবার কি ফের হরিদেবপুরে ‘অমীমাংসিত’ থাকবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য? এ প্রসঙ্গে লালবাজারের দাবি, অফিসাররা অভিযুক্তকে পাকড়াও করার জন্য লাগাতার চেষ্টা করছেন। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
পুলিস তদন্তে জেনেছে, খুনের পর কার্তিকের বায়োমেট্রিক আর ব্যবহার হয়নি। অর্থাৎ, নিজের নামে নতুন সিম কেনেনি অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে কোনও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত লেনদেনও করা হয়নি। তাঁর পুরনো মোবাইল নম্বরের সঙ্গে কোনও ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টও নথিবদ্ধ নেই। ২৩ জানুয়ারির পর থেকে পরিবারের কারও সঙ্গে কোনওভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি ফেরার কার্তিক। সেখানেই সমস্যায় পড়েছেন দুঁদে তদন্তকারীরা। ২০২২ সালে ভবানীপুরের জোড়াখুনের ক্ষেত্রেও একইরকম প্রযুক্তি-উদাসীনতার জেরে মাস্টারমাইন্ড দীপেশ শাহ এখনও ফেরার। এবার কি ফের হরিদেবপুরে ‘অমীমাংসিত’ থাকবে হত্যাকাণ্ডের রহস্য? এ প্রসঙ্গে লালবাজারের দাবি, অফিসাররা অভিযুক্তকে পাকড়াও করার জন্য লাগাতার চেষ্টা করছেন। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।



