সঞ্জয় সরকার: ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনাল। পেনাল্টি শ্যুট-আউটে কিংসলে কোম্যান ও চৌমেনি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হতেই হতাশার সাগরে ডুব দেয় ফরাসি ব্রিগেড। ‘ব্যাক টু ব্যাক’ বিশ্বসেরার স্বপ্ন অধরাই থাকে দিদিয়ের দেশঁ ব্রিগেডের। তারপরেই দেশবাসীর তোপের মুখে পড়তে হয় দুই কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধেয়ে আসে একের পর এক বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য। অথচ এই ফ্রান্স দলেই বছরের পর বছর দেখা মিলেছে কৃষ্ণাঙ্গ, শ্বেতাঙ্গ এবং আরবীর মহামিলন। অতীতে দু’বার বিশ্বজয়ের ক্ষেত্রেও প্রধান কারিগর ছিলেন তথাকথিত কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলাররা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের মঞ্চে ফরাসি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন আলজেরিয়ার গন্ধ মাখা জিনেদিন জিদান। তাঁর স্পর্শ সাময়িকভাবে ভুলিয়ে দিয়েছিল বর্ণবৈষম্য। সাম্যবাদের জয়গানে মুখরিত হয়েছিল গোটা দেশ। দু’দশক বাদে ২০১৮ বিশ্বকাপেও কিলিয়ান এমবাপে-পল পোগবা-এনগোলো কান্তেরা বয়েছিলেন কৃষ্ণাঙ্গদের পতাকা। পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্সের পনেরো শতাংশ মানুষই উত্তর আফ্রিকার। পাঁচ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। মার্কিন মুলুকে অংশগ্রহণকারী দিদিয়ের দেশঁ’র প্রশিক্ষণাধীন দলের অধিকাংশই কৃষ্ণাঙ্গ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুরন্ত হ্যাটট্রিক করা ওসুমানে ডেম্বেলের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে মালির শিকড়ের টান। তাই অতীতের যাবতীয় তিক্ততা ভুলে আরও একবার বিশ্ব জয়ের স্বপ্নে বুঁদ নেপোলিয়ন বোনাপার্টের দেশ। সেই লক্ষ্যেই ‘বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান’ থিমেই মঙ্গলবার রাউন্ড অব ৩২’এর লড়াইয়ে সুইডেনের মুখোমুখি হবেন এমবাপেরা।



