Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বিফলে গেল জাপানের দুরন্ত লড়াই, ব্রাজিলকে জেতালেন সুপার-সাব মার্তিনেল্লি

বিফলে গেল জাপানের দুরন্ত লড়াই, ব্রাজিলকে জেতালেন সুপার-সাব মার্তিনেল্লি
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রাজিল- ২                   :                       জাপান- ১
(কাসেমিরো, মার্তিনেল্লি)                                  (কাইশু)

Advertisement

হিউস্টন: সংযোজিত সময় চলছে। ম্যাচ তখনো ১-১। হিউস্টনের গ্যলারি জুড়ে তিরতিরে টেনশন। হলুদ-সবুজে রঙিন মুখে উদ্বেগের ছোঁয়া স্পষ্ট। ঠিক তখনই  প্রতিপক্ষ বক্সে বল পেয়ে ব্রুনো গুইমারেসকে বাড়ালেন রায়ান। এক্ষেত্রে ব্রুনোর চকিত পাস ধরে নিখুঁত প্লেসিংয়ে জাল কাঁপালেন মার্তিনেল্লি। জাপানের ম্যাচে ফেরার সময় ছিল না আর। ১ গোলে পিছিয়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন সাম্বার দেশের। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে খেলবে সেলেকাওরা। অভিজ্ঞ নেইমারকে এদিন নামাননি ব্রাজিল কোচ। পরের ম্যাচের আগে ফিট হতে আরও সময় পেয়ে গেলেন সাম্বা ফুটবলের পোস্টার বয়। 
২০০৬ সালে শেষবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেবার পিছিয়ে পড়েও ৪-১ গোলে জাপানকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন রোনাল্ডোরা। দু’দশক পরেও সেই পিছিয়ে পড়েও বাজিমাত। অথচ প্রথমার্ধে অতি বড় ব্রাজিল সমর্থকও আশাবাদী ছিলেন না। জাপান রক্ষণে দাঁত ফোটাতেই ব্যর্থ ব্রাজিল। ৪-২-৩-১ ফর্মেশন কার্লো আনসেলোত্তির প্রিয়। এদিনও সেভাবেই দল সাজিয়েছিলেন অভিজ্ঞ কোচ। কিন্তু ডাবল পিভটের অন্যতম কাসেমিরো অনেক শ্লথ। সেরা সময় পেরিয়েছেন অনেকদিন। বর্ষীয়ান কাসেমিরোকেই টার্গেট করল তরতাজা জাপান। ২৯ মিনিটে লিডও নেয় সামুরাইয়ের দেশ। ওভারল্যাপে আসা ডানিলোর মিস পাস ধরে দৌড় শুরু কাইশু সানোর। গতিতে কাসেমিরোকে টপকে বক্সের গোড়া থেকে জমি ঘেষা শট নিলেন জাপানি বম্বার। অ্যালিসন শরীর ছুড়েও বলের নাগাল পাননি (১-০)। গোল খেয়েও ঝিমিয়ে রইল ব্রাজিল। সাম্বা ব্রিগেডে প্লে-মেকারের অভাব প্রকট। বল না পেয়ে হাঁসফাঁস করলেন ভিনিসিয়াসও। 
ব্রাজিলকে জাগাতে স্পার্কের দরকার ছিল। বিরতির পর পাকুয়েতার পরিবর্তে এনড্রিককে নামালেন আনসেলোত্তি। গতি বাড়তেই অনেক চনমনে ব্রাজিল। ৫১ মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের হেড রুখে দেন জাপান গোলরক্ষক সুজুকি। পরের মিনিটেই এনড্রিকের হেড গোললাইন সেভ। ৫৫ মিনিটে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরালেন সেই কাসিমেরো। এক্ষেত্রে গ্যাব্রিয়েলের ভাসানো বল থেকে দুরন্ত হেডে জাল কাঁপান তিনি (১-১)। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণে তখন দিশাহারা সামুরাই ব্রিগেড। ৫৭ মিনিটে সোলো রানে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে টপকে জাপান বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়াস। এক্ষেত্রে আউটসাইড চাঁটা প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের হাতে লেগে পোস্টে প্রতিহত হয়। জাপান রক্ষণ ভাঙতে প্রান্তিক আক্রমণে জোর দিলেন কার্লো। তবে জোনাল মার্কিংয়ে ভিনিকে রুখল জাপান রক্ষণ। ডাবল লেয়ার ডিফেন্সের বিরুদ্ধে তেমন সুবিধা করতে পারলেন না সাম্বা তারকা।  দুই উইং কাজে লাগিয়ে জাপান রক্ষণে ফাটল ধরাতে চেয়েছিলেন কার্লো। কিন্তু এই ব্রাজিলে দক্ষ হেডারের অভাব রয়েছে। তাই দুই প্রান্ত থেকে ক্রমাগত বল ভাসালেও লাভের লাভ হয়নি। চাপের মুখে একাধিক কর্নার পেলেও তা থেকে ফসল তুলতে ব্যর্থ সাম্বা ব্রিগেড। এরপর আস্তিন থেকে শেষ তাস বার করলেন ডন কার্লো। নেইমার নয়, বরং মার্তিনেল্লিকে নামিয়ে দিলেন অভিজ্ঞ কোচ। সংযোজিত সময়ের শেষ মিনিটে বাজিমাত সেই সুপার-সাব মার্তিনেল্লির (২-১)। বীরের মতো লড়েও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল নিশীথ সূর্যের দেশ। তবে জাপানের লড়াই এশিয়ান ফুটবলের দুরন্ত বিজ্ঞাপন হয়ে রইল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ