সত্যজিৎ চ্যাটার্জি: অভিনন্দন হোসে মোলিনা। স্প্যানিশ কোচের অধীনে সবুজ-মেরুন বাহিনী এখন ভারতীয় ফুটবলে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইএসএলের লিগ-শিল্ড আগেই পকেটে পুরেছিল কামিংসরা। শনিবার যুবভারতীতে বেঙ্গালুরু এফসিকে বশ মানিয়ে পূর্ণ হল দ্বিমুকুট জয়। এবার আর্ন্তজাতিক সাফল্য চাই। আগামী মরশুমে সরাসরি এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’তে অংশ নেবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। আমার বিশ্বাস, সেকথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা তৈরি টিম-ম্যানেজমেন্টের। এশীয় স্তরে জাতীয় দলের সাফল্য নেই বহুদিন। ক্লাব ফুটবলে মোহন বাগানকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে চমক দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের হাতেই দেশের মুখ উজ্জ্বল করার গুরুদায়িত্ব। সাফল্য ছিনিয়ে আনতে পারলে ভারতীয় ফুটবলকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেবে আমাদের গর্বের দল। ১৯১১ সালে শিবদাস, বিজয়দাসদের ঐতিহাসিক শিল্ড জয় ইতিহাসের পাতায় সমাদৃত। সেই ধারা আজও প্রবাহমাণ। মোহন বাগান চিরকালের, চিরদিনের।
চলতি মরশুমে সাফল্যের রহস্য ঠিক কী? প্রথম ফ্যাক্টর অবশ্যই ফুটবলার নির্বাচন। একাধিক ম্যাচ উইনার এই দলের সম্পদ। ম্যাকলারেন, কামিংস, স্টুয়ার্টরা যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলাতে দক্ষ। ফলে প্ল্যান ‘এ’ আটকে গেলেও কৌশল বদলাতে অসুবিধা হয়নি মোলিনার। আলাদা করে উল্লেখ করতেই হয় থিঙ্কট্যাঙ্কের কথা। দুরন্ত স্কাউটিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় তারাই সেরা। বিদেশি ও ভারতীয় ফুটবলার রিক্রুটের ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা সত্যিই তারিফযোগ্য। কোচ মোলিনার উপস্থিতিও এক্স ফ্যাক্টর। রাশভারী স্প্যানিশ কোচ কম কথার মানুষ। কিন্তু ড্রেসিং-রুমটা হাতের তালুর মতো বোঝেন। তারকাখচিত স্কোয়াড সামলানো বেশ কঠিন। পান থেকে চুন খসলে ইগোর সমস্যা তৈরি হয়। মোলিনার দলে ওসব ভাবাই যায় না। বরং আদর্শ টিম স্পিরিটের উদাহরণ। কোচ, কর্তা-ফুটবলার, সাপোর্ট স্টাফের মেলবন্ধন সত্যিই ঈর্ষনীয়। মরশুমের শুরুতে মোলিনাকে দেখে অনেকেই গেল-গেল রব তুলেছিলেন। সমালোচকদের ভুল প্রমাণিত করেছেন তিনি। আসলে মানিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় দিতে হয়। কিবু ভিকুনার ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছিল। সেবার কল্যানী স্টেডিয়ামে চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে শোচনীয় হারের পর অনেকেই বলেছিলেন এই কোচ চলবে না। শেষপর্যন্ত মোহন বাগানই আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়। হোসে মোলিনাও ট্রফি জয়ের রসায়ন জানেন। শনিবারের খেতাবি লড়াইয়ে আশিক ও সাহালকে পরে নামাতেই কেঁপে যায় বেঙ্গালুরু। এখানেই কোচের কৃতিত্ব। বাকিটা ইতিহাস।
একের পর এক মাইলস্টোন স্পর্শ করে এভাবেই এগিয়ে চলুক আমাদের প্রাণের ক্লাব। লক্ষ লক্ষ সমর্থকের মতো আমিও গলার শিরা ফুলিয়ে বলতে চাই— জয় মোহন বাগান।