নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সল্টলেকে হকার তুলে দেওয়া নিয়ে বিধাননগর পুরসভার বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তুমুল বিতর্ক। বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে কিছু জানেনই না মেয়র। বিজ্ঞপ্তিতে বিধাননগরের বিজেপি বিধায়কের নাম উল্লেখ করা রয়েছে। কিন্তু বিধায়কও হকার তুলে দেওয়া সংক্রান্ত কোনো পরামর্শ দেননি। বিষয়টি সামনে আসার পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে সল্টলেকে। কয়েক হাজার হকার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে কার্যত দিশাহারা। পুরসভার লেটার হেডে লেখা এই বিজ্ঞপ্তি রহস্যও তৈরি করেছে। তা ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। রহস্য আরও আছে। বিজ্ঞপ্তিটিতে পুরসভার কোনো আধিকারিকের কোনো স্বাক্ষর পর্যন্ত নেই।
প্রশ্ন, মেয়রকে অন্ধকারে রেখে এবং বিধায়কের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে কে বা কারা এরকম সংবেদনশীল বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করলেন? নির্বাচিত বোর্ডকে লুকিয়ে তা জারির নেপথ্যে কোন স্বার্থ লুকিয়ে? কারা এই সাহস দেখালেন? পুরসভার একাংশের বক্তব্য, ‘রাজ্যে পালাবদলের পর সাময়িক যে ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার ফায়দা তুলতে সক্রিয় হয়েছে পুরপ্রশাসনের একাংশ। সেই অংশটিই বিধাননগরজুড়ে অচলাবস্থা তৈরি করতে এই ধরনের কাজ করছে। অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করা উচিত। না হলে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হবে। নাগরিক পুরষেবা ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
২২ মে সল্টলেকের একাধিক জায়গায় প্রকাশ্যে প্রথম নির্দেশিকাটি টাঙায় পুরসভা। তাতে লেখা, ‘১১৬ নম্বর বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সম্মানীয় বিধায়ক ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিধাননগরের বিভিন্ন ব্লকের লোকাল মার্কেটগুলির চারপাশে এবং নিকটবর্তী ফুটপাতে অনুমোদনহীন যে সব দোকান বা অন্যান্য ব্যবসায়িক কাঠামো রয়েছে তাদের মালিকদের জানানো যাচ্ছে যে আগামী সাত (৭) দিনের মধ্যে এই সকল অনুমোদনবিহীন কাঠামো বা দোকান সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’ এরপর আচমকা প্রথমটির পাল্টা দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তি টাঙানো হয়। তার বয়ান, ‘এতদ্বারা সকলকে জানানো যাচ্ছে যে অনিবার্য কারণবশত গত ২২/০৫/২০২৬ এর বিজ্ঞপ্তি নং, 2034/ BMC/ GS/ 2026 কে বাতিল বলে ঘোষনা করা হলো। এই সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু করনীয় থাকলে তা আপনাদেরকে যথা সময়ে জানানো হবে।’ (বানান অবিকৃত)
প্রসঙ্গত বিজেপির বিধায়ক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় কিছুদিন আগে পুরভবনে গিয়ে বিধাননগরের মেয়র, ডেপুটি মেয়র, চেয়ারম্যান ও আধিকারিকদের সঙ্গে সৌজন্যসাক্ষাৎ করেছিলেন। তার কিছুদিনের মধ্যেই পুরসভা এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেয়। মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী বলেন, ‘এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সাংবাদিকদের মুখ থেকে শুনেছি।’ আর শারদ্বতবাবু বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমি হকার বৈধ কি অবৈধ সে বিষয়ে কিছু বলিইনি। শুধু বলেছিলাম, হকারদের শনাক্তকরণ করতে। অধিকাংশ জায়গায় ফায়ার সেফটি নেই। সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক করতে শনাক্ত করা জরুরি। কতদিন বসছেন, কি নথিপত্র আছে সেসব দেখা খুঁজে দেখা উচিত। তা না করে নোটিস টাঙিয়ে দিয়েছে। অবশ্য পরে সংশোধনীও দিয়েছে।’