Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চেয়ারে মেয়র, মমতার ছবি সরাল বিজেপির নেতাকর্মীরা, আসানসোলে উত্তেজনা, আটক পদ্মনেত্রী

চেয়ারে মেয়র, মমতার ছবি সরাল বিজেপির নেতাকর্মীরা, আসানসোলে উত্তেজনা, আটক পদ্মনেত্রী
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল পুরসভার নিয়ন্ত্রণ মঙ্গলবারই কার্যত নিজেদের হাতে নিয়ে নিল বিজেপি। নাগরিক পরিষেবা নিয়ে পুরসভায় বিক্ষোভ দেখাতে যায় গেরুয়া শিবির। তখন চেম্বারে বসেন মেয়র বিধান উপাধ্যায়। তাঁর মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। সেটা দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি যুব মোর্চার নেতা-কর্মীরা। মেয়র চেয়ারে বসে থাকা অবস্থাতেই টেবিলে উঠে মমতার ছবি সরিয়ে ফেলেন যুব মোর্চার জেলা সভাপতি অভিক মণ্ডল। সেখানে টাঙানো হয় প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও ভারতমাতার ছবি। মেয়রের চেয়ারের পিছনে থাকা আসানসোল পুরসভার লোগোও ভেঙে ফেলে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। সেই সঙ্গে  হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, মানুষের পরিষেবা দিতে আপনারা ব্যর্থ। বুধবার থেকে পুরসভায় আসবেন না। এলে যদি কিছু হয় তাঁর দায়িত্ব আপনার। 

Advertisement

আসানসোল পুরসভাজুড়ে বিজেপি দাপট দেখালেও বাঘা বাঘা তৃণমূল নেতা তথা মেয়র পরিষদ সদস্যদের ধারে কাছে দেখা যায়নি। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন মেয়র বিধান উপাধ্যায় ও চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বিজেপির বিক্ষোভ। তবে, রাত পর্যন্ত পুরসভার তরফে  কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা আসেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজন বিজেপি নেতা-নেত্রীকে থানায় নিয়ে যায়। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, রাত পর্যন্ত পুরসভার পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। 
২০২২ সালের আসানসোল পুরসভার মেয়র করা হয় বিধান উপাধ্যায়কে। বিধানবাবু অবশ্য পুরসভা নির্বাচনে লড়াই করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই মেয়রের চেয়ারে বসেন। ছ’মাস পর একটি ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে জিতে আসেন। তাঁর চেম্বারে মাথা উপরে ছিল আসানসোল পুরসভার লোগো। ঠিক তার উপরেই মমতার গালে হাত দেওয়া হাসির ছবি। তার উপরে মহাত্মাগান্ধীর ছবি। পালা বদলের পর তৃণমূল সুপ্রিমোর ছবি কেন মেয়রের চেম্বারে, সেই প্রশ্নে বিধানবাবু বলেন, ছবি সরিয়ে নেওয়ার কোনো নির্দেশ আসেনি। এদিন অতর্কিতে বিজেপি নেতা-কর্মীরা চলে আসেন আসানসোল পুরসভায়। জেলা বিজেপির দুই সাধারণ সম্পাদক কাকলি ঘোষ ও অপূর্ব হাজরাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল পুর-পরিষেবার ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তখনই যুব মোর্চার ছেলেরা এসে মেয়রের চেয়ার ঘিরে ধরেন। চলতে থাকে স্লোগান। চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়ের চেম্বারে ঢুকেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। তাঁরা বলেন, আপনারা ভোট লুট করে চেয়ারে বসেছেন। এই চেয়ার ছাড়তে হবে। যুব মোর্চার হুঁশিয়ারি, বুধবার থেকে এই চেয়ারে বসে কোনো কাজ করতে গেলে তার দায়িত্ব আপনাদের। 
বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব হাজরা বলেন, নাগরিক পুরসভা দিতে এই ঩বোর্ড পুরোপুরি ব্যর্থ। মানুষ ওঁদের আর চেয়ারে দেখতে চায় না। ওঁরা পদত্যাগ করুন। কংগ্রেস কাউন্সিলার এসএম মোস্তাফা বলেন, আমরা এই ঘটনার নিন্দা করছি। তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, গণতন্ত্রকে হত্যা করার সামিল এই ঘটনা। আসানসোল পুরসভায় কিন্তু জনগণের ভোট নির্বাচিত বোর্ড।  মেয়রের টেবিলেই ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও পুরসভার লোগো। সাফাইকর্মীরা কাঁচের টুকরো সরিয়ে দিচ্ছে। তখনও চেয়ারে বসে বিধ্বস্ত মেয়র কোন মন্তব্য না করে বলেন, সবই তো দেখেছেন।  আসানসোল পুরনিগমে মেয়রের চেম্বারে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি নিয়ে ঝামেলা।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ