নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্পত্তিকর খাতে আয় বেড়েছে। সার্বিকভাবে রাজস্ব খাতে আয় বৃদ্ধি যৎসামান্য। এই পরিস্থিতিতে ঘাটতি আর না বাড়িয়ে অর্থাৎ গতবছরের বাজেটের (২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষ) অনুরূপ ঘাটতি রেখে আগামী অর্থবর্ষের (২০২৬-’২৭) বাজেট করাটাই চ্যালেঞ্জ কলকাতা পুরসভার কাছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি পুর-বাজেট পেশ করবেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। দ্বিতীয় দফায় মেয়র হিসেবে এটাই তাঁর শেষ বাজেট হতে চলেছে। কারণ চলতি বছর ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার ভোট হওয়ার কথা। বাজেট তৈরির কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। তা নিয়ে পুরসভার অন্দরে নানা জল্পনা চলছে। পুরসভার অর্থ বিভাগ সূত্রে খবর, গতবারের বাজেটে উল্লেখিত ঘাটতি এবার প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বা কিছু কম বেশি হতে পারে। ভোটের বছর, তাই কোথাও কোনও কর বা ফি বৃদ্ধির পথে ফিরহাদ হাকিম হাঁটবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। বরং গতানুগতিক বাজেট করতেই আগ্রহী শাসক পক্ষ।
জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে (১ এপ্রিল, ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ, ২০২৬) ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব খাতে পুরসভার আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫০ কোটি ৭২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা। গত অর্থবর্ষে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ১ হাজার ১০৮ কোটি ৩৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা আয় হয়েছিল। অর্থাৎ এবার প্রায় কোটি টাকা বেশি আয় হয়েছে। শুধুমাত্র সম্পত্তিকর খাতে বাড়তি ৪২ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা এসেছে পুর কোষাগারে। এই বৃদ্ধি আশানুরূপ নয় বলেই মনে করছেন বিভাগীয় আধিকারিকরা। অন্যান্য বছর যেখানে ১০ থেকে ১২ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি হয়, সেখানে চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও আপাতত পৌঁছনো যায়নি। তবে চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে এখনও মাস দেড়েক বাকি। শেষের দিকে আয় কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশাবাদী পুরকর্তারা।
এই প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বাজেট ঘাটতি গতবছরের অনুরূপ রাখতে পারলে সেটাই অনেক। কারণ বিভিন্ন খাতে খরচ যে হারে বেড়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আয় বৃদ্ধি হয়নি। এক শীর্ষকর্তা বলেন, নানা দিক থেকে পুরসভার আয় গত ক’বছরে অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু পাল্লা দিয়ে বেড়েছে খরচ। তাই বিভিন্ন খাতে অপচয় কমানোয় জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন খাতে খরচ বৃদ্ধির কারণে টাকা দেখা যাচ্ছে না! প্রসঙ্গত কলকাতা পুরভোট যদি সময়ে হয় সেক্ষেত্রে এটাই বর্তমান পুরবোর্ডের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। তাই তার আগে কোনও এক্সপেরিমেন্ট করতে রাজি নয় পুর কর্তৃপক্ষ। ফলে পুর বাজেটে কিছু চমক থাকার সম্ভাবনা নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। সেই সঙ্গে পানীয় জল, নিকাশি, সড়ক, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ক্ষেত্রগুলিতে কত টাকা বরাদ্দ হয়, নজর রাখছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। কারণ ভোট মাথায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলির ঘুঁটি সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই।