সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: পর্যটকদের জন্য উত্তরবঙ্গের অফবিট ঠিকানা মায়ালু বস্তি। পাহাড় মানেই কি ভিড় আর ব্যস্ত বাজার? একেবারেই নয়। পাহাড়ের বুকেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু অচেনা ঠিকানা যেখানে প্রকৃতি এখনও নিজের মতো বেঁচে আছে। কালিম্পং জেলার গোরুবাথানের মায়ালু বস্তি তেমনই এক মায়াময় গন্তব্য। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম। চারদিকে সবুজ পাহাড়, গভীর জঙ্গল আর তার মাঝে বয়ে চলা চেল নদী। নেই পর্যটকদের ভিড়, নেই বাজারের কোলাহল। এখানে জীবন চলে প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দে।
মায়ালু বস্তিতে সকাল আসে অন্যরকম ভাবে। ভোরের আলো পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে পড়তেই সবুজের স্তরগুলি নতুন রঙে সেজে ওঠে। চেল নদীর অবিরাম কলকল শব্দ সেই নিস্তব্ধতাকে আরও গভীর করে। পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকা, নদীর শব্দ শোনা বা জঙ্গলের পথে হাঁটাই এখানে সবচেয়ে সুন্দর সময় কাটানো। এখানকার প্রধান আকর্ষণ জারুল গাছের জঙ্গল। শীতের শেষে বেগুনি জারুল ফুলে পুরো উপত্যকা রঙিন হয়ে ওঠে। সবুজের মাঝে বেগুনি রঙের এই খেলা প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করবেই। সঙ্গে রয়েছে নানা প্রজাতির রঙিন প্রজাপতির ওড়াউড়ি। জঙ্গল, নদী, ফুল আর প্রজাপতি মিলে এ যেন প্রকৃতির আঁকা এক ছবি।
নামের মতোই মায়াময় এই গ্রাম। একবার গেলে সহজে ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করে না। অফবিট হলেও দুর্গম নয়। নিউ মাল জংশন থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের পথ। দার্জিলিং বা কালিম্পংয়ের ভিড় এড়িয়ে যারা পাহাড়কে নিরিবিলিতে অনুভব করতে চান, তাদের জন্য মায়ালু বস্তি হতে পারে সেরা ঠিকানা। • নিজস্ব চিত্র।