Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বনগাঁর পরিবর্তন যাত্রায় মতুয়া উপস্থিতি নামমাত্র, চাপে বিজেপি

ব্যানার আছে, পতাকা আছে, মাইক আছে—কিন্তু নেই চেনা উন্মাদনা! মতুয়াগড় বনগাঁয় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা।

বনগাঁর পরিবর্তন যাত্রায় মতুয়া উপস্থিতি নামমাত্র, চাপে বিজেপি
  • ৮ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: ব্যানার আছে, পতাকা আছে, মাইক আছে—কিন্তু নেই চেনা উন্মাদনা! মতুয়াগড় বনগাঁয় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা। বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে বনগাঁয় এতদিন সামনের সারি ‘দখল’ করে থাকত মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই মতুয়ারাই যেন এবার নেই। এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণেই কি এই অবস্থা? প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের। বনগাঁ, গাইঘাটা, বাগদা—মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে বিজেপির কর্মসূচি মানেই এতদিন ছিল আলাদা উত্তেজনা। মিছিলের সামনের সারিতে কাঁসর বাজিয়ে, ডঙ্কা পিটিয়ে মতুয়া ভক্তদের ঢল যেন বিজেপির শক্তির মাত্রা প্রদর্শন করত! নেতারাও বারবার সেই ছবিকেই সামনে এনে দাবি করতেন—মতুয়ারা তাঁদের সঙ্গেই আছে। এসআইআর পর্বে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে পদ্মের পরিবর্তন যাত্রায় সেই ‘চেনা ছবি’ প্রায় অদৃশ্য। মিছিল হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা সীমাবদ্ধ দলীয় কর্মীদের মধ্যেই। স্থানীয়দের কথায়, ভিড় আছে, কিন্তু প্রাণ নেই! যে মতুয়া পাড়াগুলি থেকে এতদিন স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় নামত, সেখানে এখন অনেকেই দূর থেকে পরিস্থিতি দেখছেন। নেপথ্যে উঠে আসছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গটি। শুক্র ও শনিবার বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাতে সেভাবে দেখা গেল না মতুয়াদের। শনিবার বাগদার মনোহরপুরে সভায় কিছু সংখ্যক মতুয়া সম্প্রদায়ের লোকজন থাকলেও, তাঁদের মধ্যেও তেমন উৎসাহ দেখা যায়নি। বাগদার বাসিন্দা সুবোধ বিশ্বাস বলেন, আমাদের যে ক্ষতি করে দিয়েছে আমরা এখন বুঝতে পারছি। এখনও কিছু মতুয়া আছেন, যাঁদের ভুল বুঝিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে ওরা (বিজেপি) নিয়ে আসছে। আগামীতে কোনো মতুয়া ওদের সঙ্গে থাকবে না। 

Advertisement

এদিন বাগদার সভায় বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, কেউ ভয় পাবেন না। সকল মতুয়ার নাম থাকবে। এদিকে শুক্রবার রাতে বনগাঁ বাটার মোড়ে পথসভা করে বিজেপি। সেখানে মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিএলওদের দায়ী করেন বনগাঁ পুরসভার বিজেপি কাউন্সিলার দেবদাস মণ্ডল। বলেন, যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা বিএলওদের কলার ধরে থানায় নিয়ে যান। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদে কয়েকজন বিএলও শনিবার দেবদাসবাবুর বিরুদ্ধে থানায় স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, এবার মতুয়া-বিরোধী বিজেপিকে মানুষ বিসর্জন দেবে। ওদের খুড়োর কলের বিষয়টি মানুষ বুঝে গিয়েছেন। বনগাঁর বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, যাদের চোখ নেই, তাঁরাই পরিবর্তন যাত্রায় মতুয়াদের দেখতে পাননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এখানেই বিজেপির সবচেয়ে বড় অস্বস্তি। যে মতুয়া আবেগকে সামনে রেখে এতদিন বাংলার রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা মজবুত করার চেষ্টা করেছে দল, সেই আবেগেই এখন প্রশ্নের ছায়া। প্রসঙ্গত, এসআইআরে মতুয়াগড় বনগাঁর চারটি বিধানসভায় নাম বাদ পড়েছে ৩৬ হাজার ৯০১ জনের। এর ৯০ শতাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের। এছাড়া ৬১ হাজার ৪৮০ জন ভোটারের ভাগ্য এখন বিচারাধীন।

সম্পর্কিত সংবাদ