সংবাদদাতা রানাঘাট: ভোটের দামামা বাজতেই রাজনৈতিক নেতাদের আনাগোনা বেড়েছিল রানাঘাটে। পদ্ম শিবিরের হেভিওয়েট নেতৃত্বের পাখির চোখ ছিল এই এলাকার অন্যতম বড় ভোট ব্যাংক মতুয়া সম্প্রদায়। প্রতিশ্রুতি ছিল, নতুন সরকার এলেই হবে সমস্ত সমস্যার সমাধান। কিন্তু পালাবদলের ৪ মাস পার হয়ে গেলেও রানাঘাটের মতুয়া সম্প্রদায়ের বড় অংশ এখন পায়নি নাগরিকত্ব। রানাঘাটের মগরাইল, বাগরাইল, চন্দনদহ, বড়কুল্লা, গাংনি, অঞ্জন গড় ও ভাদুড়ি সহ একাধিক গ্রামে নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা হতাশা সৃষ্টি করেছে হাজার হাজার মতুয়া পরিবারে। স্থানীয় মতুয়ারা জানান, যাদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে বা বাদ পড়ার ঝুঁকিতে ছিল, তাদের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের অধীনে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। নেতাদের কথা মতো সিএএ পোর্টালে আবেদনও করেছিলেন অনেকে। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, আবেদনের দীর্ঘদিন পরেও সরকারি স্তর থেকে কোনো সদুত্তর মিলছে না। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় কোনো দপ্তরেই তারা এই সংক্রান্ত আবেদনের সঠিক অগ্রগতি জানতে পারছেন না। ফলে নিজেদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্ব নিয়ে এক চরম ধোঁয়াশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের রানাঘাট-১ ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি পরিমল বিশ্বাস বলেন, ‘নেতা মন্ত্রীরা ভোটের আগে অনেক কথা বলেন। কিন্তু ভোটের পর মতুয়াদের দিকে কারও নজর দেওয়ার সময় নেই। স্থায়ী পরিচয় এবং ভোটারধিকার না থাকলে এই সুবিধা নিয়ে আমরা কী করব। সরকারের উচিত অন্য সবকিছুর আগে আমাদের ভোটাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা।’ মগরাইল গ্রামের মতুয়া বিজু গোসাই বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা সাময়িক স্বস্তি দিলেও নাগরিকত্বের প্রশ্নটি আত্মসম্মানের সঙ্গে জড়িত। আশ্বাস পাওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় রানাঘাটে মতুয়াদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার জটিলতা দূর করতে সক্রিয় পদক্ষেপ করুক।’ রানাঘাট-১ বিডিও অফিস সূত্রে জানা যায়, সিএএ সার্টিফিকেট নিয়ে হেয়ারিং চলছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যে লিস্ট বেরিয়েছিল তাদের হেয়ারিং চলছে। এসআইআরে যাদের অ্যাডজুডিকেশন নাম আছে তাদের নিয়ে কোনো সরকারি নির্দেশ আসেনি। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় জানান, কিছু তৃণমূলের লোকেরা তাদের ভুল বুঝিয়েছিল তাই প্রথমদিকে অনেকে সিএএতে আবেদন করেনি। তাদেরই নাম এখন ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে। যারা সিএএতে আবেদন করেছিল, তারা আগামী দিনে নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে।’



