


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: সারা দেশে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ কতজন আছেন? তাঁদের মধ্যে ভোটার কতজন? এই ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের পরিসংখ্যানটাই-বা কী? এসব নিয়ে এবার গণনায় নামছে সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসঙ্ঘ। তথ্য ভাণ্ডার তৈরির এই কার্যক্রমের নাম দেওয়া হচ্ছে—‘মতুয়া গণনা’।
বস্তুত, ভোট এলেই রাজনৈতিক দলগুলির মনে পড়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষগুলির কথা। বিশেষ করে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, ভোট এলেই মতুয়া প্রেম উথলে পড়ে তাদের। তবে তৃণমূল বলে থাকে, রাজ্য সরকার বছরভর মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে থাকে। আবার ভোটের ফলাফলে এমন ছবিও দেখা গিয়েছে, রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনদের একটা অংশ আগের ভোটে বিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচন এলেই বৃদ্ধি পায় মতুয়া ভোট নিয়ে রাজনৈতিক তরজা। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার মধ্যে নতুন একটি সামনে এসেছে—মতুয়া গণনা।
জনগণনা যেমন হয়, সেই ধাঁচে এবার মতুয়া গণনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ। জানা গিয়েছে, তারা গোটা দেশব্যাপী পরিসংখ্যান সংগ্রহ করবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কীভাবে এই মতুয়া গণনার কাজ হবে, তার আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে মতুয়া মহাসংঘের মধ্যে। একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকে পড়েছে তারা। বাড়ি বাড়ি যাবেন মতুয়া মহাসংঘের কর্মীরা। জেলা, ব্লক, শাখা, অঞ্চল কমিটির মাধ্যমে গোটা কাজটি পরিচালিত হবে।
অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর বলেন, মতুয়া গণনা আমরা করতে চাই। মতুয়া ধর্মাবলম্বী কতজন মানুষ আছেন, সেটা জানাই আমাদের লক্ষ্য। তার জন্য একটি গণনা প্রক্রিয়া আমরা শুরু করতে চলেছি। নির্দিষ্ট একটি ফরম্যাট তৈরি করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার, চাকরিসহ নানাবিধ বিষয় আমরা গণনার মাধ্যমে সংগ্রহ করতে চলেছি। অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক নবীন বিশ্বাস বলেন, কেউ বলে থাকেন সারা দেশে ৬ কোটি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। আবার কারও মতে, সংখ্যাটা ৪ থেকে ৫ কোটি। কিন্তু সঠিক সংখ্যা কত, সেটাই এবার জানতে মতুয়া গণনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কোন বয়সের কতজন মানুষ রয়েছেন, সেই তথ্যও নেওয়া হবে।
এই মতুয়া গণনার কাজ কীভাবে হবে, তা নিয়ে একটি সাধারণ সভা ডাকা হবে। তার আগে ২৬ ও ২৭ মার্চ মতুয়া মহামেলার তোড়জোড় চলছে পূর্ণমাত্রায়। ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ওই অনুষ্ঠান শেষ হলেই মতুয়া গণনার বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে।
উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদীয়া জেলার কিছু স্থানে মতুয়া সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের বসবাস। এছাড়া রাজ্যের বাকি জেলাগুলিতে কমবেশি মতুয়া ভক্তরা রয়েছে। প্রত্যেকবারই দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জয়ের জন্য মতুয়া ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গে দু’কোটির বেশি
মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন রয়েছেন। ফলে আগামী দিনে মতুয়া গণনার পর সঠিক পরিসংখ্যান সামনে এলে তাঁদের কাছে পৌঁছতে রাজনৈতিক দলগুলির ব্যস্ততা আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
মতুয়া-বাড়িতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মধ্যাহ্নভোজের নজির আজ এখানেই প্রাসঙ্গিক। নবীন বিশ্বাসের কথায়, নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ ভাঁওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। সবটাই গিমিক। ভোট হাতানোর নিম্ন কৌশল। কিন্তু আমরা চিন্তাভাবনা করেছি, নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবিতে আমাদের আন্দোলন দীর্ঘতর হবে।