সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়: ১৯৯০ সালের ৮ জুলাই! ফুটবলবিশ্বের চোখ রোমের স্তাদিও ওলিম্পিকো স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্তিনার মুখোমুখি পশ্চিম জার্মানি। একদিকে ফুটবলের রাজপুত্র ডিয়েগো মারাদোনা। উলটোদিকে এক লড়াকু মিডিও— বুকে জার্মানির জার্সি, চোখে আগুন। আর সেদিন সবাইকে অবাক করে মারাদোনাকে রুখেও দিয়েছিলেন। তিনি আর কেউ নন, জার্মানির কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউজ। স্বয়ং মারাদোনাও পরে বলেছিলেন ‘লোথারই আমার সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ।’
কাট টু ২০২৬। কালো শার্ট, শরীরে বয়সের ছাপ নেই বললেই চলে। চুলে সামান্য পাক ধরেছে, একটু এলোমেলোও— তবে সেটাও কেয়ারলেস বিউটি। শরীরে এতটুকুও মেদ নেই, যেন বল পায়ে এখনও বিশ্বকাপে নামার জন্য তৈরি। বছর গড়িয়েছে ঠিকই, তবে হাসিটা বদলায়নি। আর বিশ্বকাপের ফেভারিট প্রশ্নে হাফ ভলিতে জাল কাঁপানোর মেজাজে কিংবদন্তির জবাব, ‘অবশ্যই জার্মানি’। তারপরই হাসতে হাসতে যোগ করলেন, ‘আরে না, মজা করছিলাম।’ কী সাংঘাতিক! জার্মানির কিংবদন্তি নিজের দেশকে ফেভারিট ধরছেন না! আসলে ম্যাথাউজ বরাবরই ঠোঁটকাটা। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতেই পছন্দ করেন। কোনোরকম রাখঢাক না রেখে তাঁর সংযোজন, ‘আমার চোখে ফেভারিট অবশ্যই আর্জেন্তিনা, ফ্রান্স ও স্পেন। তবে ফুটবলে অঘটন আজও ঘটে। সেক্ষেত্রে জার্মানি শেষ চারে যেতেই পারে।’
আসলে কোচ জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের ফুটবল দর্শন তেমন পছন্দ নয় ম্যাথাউজের। তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মানসিকতার একাধিকবার সমালোচনা করেছেন। এছাড়া ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগতে থাকা লেরয় সানেকে দলের রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে জামাল মুসিয়ালাকে প্রশংসায় ভরালেন প্রাক্তন মিডফিল্ড জেনারেল। তাঁর কথায়, ‘মুসিয়ালা, রিটজ ও কিমিচের দিকে নজর রাখতে হবে। আলাদা করে মুসিয়ালার কথা বলব। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ও কী অসাধারণ খেলে। এই বয়সে আমিও এত ভালো খেলতাম না।’ তবে তিন দেশ আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি। স্বভাবসিদ্ধ মেজাজেই বললেন, ‘এবারের বিশ্বকাপ প্লেয়ারদের জন্য খুবই কঠিন হতে চলেছে। এক ভেন্যু থেকে অপর ভেন্যুতে যাওয়া সময়সাপেক্ষ। প্লেয়ারদের ক্লান্তি বড়ো সমস্যা হবে।’
এবার বিশ্বকাপে অন্যতম চমক কেপ ভার্দে। মাত্র ৫ লক্ষ ৩০ হাজার জনবসতির এই আফ্রিকান দেশটি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই প্রসঙ্গে ম্যাথাউজকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘দারুণ ব্যাপার। কেপ ভার্দে অনেক দেশের কাছেই উদাহরণ হতে পারে। ভারতেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত। ১৪০ কোটির দেশ হয়েও কেন বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না, তার পর্যালোচনা জরুরি। গ্রাসরুট ডেভেলপমেন্টে জোর দিতে হবে।’