নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তিরিশ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বার গর্ভপাত করিয়ে গ্রেপ্তার হাতুড়ে। অভিযোগ, হাতুড়ের গাফিলতিতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু হয়। প্রদীপ সর্দার নামে অভিযুক্তকে বুধবার রাতে গোসাবা থেকে ধরা হয়েছে। তিনি গোসাবার প্রত্যন্ত এলাকার বালি দ্বীপে (২) একটি নার্সিংহোমে দীর্ঘদিন ধরে প্র্যাকটিস করতেন। কিন্তু বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গোসাবার বালি দ্বীপের বাসিন্দা তিরিশ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা কল্পনা সর্দার মণ্ডলের শারীরিক সমস্যা হওয়ায় স্থানীয় নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। তাঁকে দেখতে আসেন ‘হাতুড়ে’ প্রদীপ। অভিযুক্ত জানান, মহিলার সন্তান বেঁচে নেই। তাই গর্ভপাত করাতে হবে। তা না হলে মহিলার মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। কল্পনাদেবীর পরিবার রাজি হলে মে মাসের ২০ তারিখ তাঁর গর্ভপাত করানো হয়। ২১ মে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। রাস্তায় তাঁর মৃত্যু হয়। মহিলার পরিবারের তরফে পুলিসের কাছে কোনও অভিযোগ করা হয়নি। কিছুদিন আগে বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের কানে যায়। তাঁরা অনুসন্ধান করতে ওই হাসপাতালে যান। দেখা যায়, প্রদীপ সর্দার নিজেকে চিকিৎসক দাবি করলেও তিনি ডাক্তারই নন। ডাক্তারি পাশ না করে এবং রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অবৈধভাবে প্র্যাকটিস করছেন। এরপরই তাঁরা পুলিসের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিস তদন্তে নেমে ওই হাসপাতালে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এমনকী ওই হাতুড়ের কাছেও নথি চাওয়া হয়। কিছুই দেখাতে না পারায় গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়।



