Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ম্যাচ পরিত্যক্ত, স্বস্তির এক পয়েন্ট নাইটদের

ম্যাচ পরিত্যক্ত, স্বস্তির এক পয়েন্ট নাইটদের
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা,  কলকাতা: গ্লাসের অর্ধেক ফাঁকা, অর্ধেক ভরতি। দেখার ব্যাপারটা পুরোপুরি আপনার উপর। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও শনি সন্ধ্যায় ইডেনে উড়তা পাঞ্জাব দেখার পর বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পেয়ে কিছুটা স্বস্তিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স। ৯ ম্যাচে রাহানেদের ঝুলিতে আপাতত ৭ পয়েন্ট। বাকি পাঁচটি ম্যাচ। সবক’টি জিতলে প্লে-অফের টিকিট পাকা। সেক্ষেত্রে ১৭ পয়েন্টে শেষ করবে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। চারটি জিতে ১৫ তুললেও অঙ্কের বিচারে আশা বেঁচে থাকতে পারে। সেই কারণেই পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে পড়ে পাওয়া এক পয়েন্ট রাসেলদের মনোবল বাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট। 

Advertisement

প্রথম সাক্ষাতে মুল্লানপুরে নাইটদের টুটি টিপে ধরেছিল পাঞ্জাব। ফিরতি লড়াইয়ে শনিবার ইডেনে দাপট দেখাল প্রীতি জিন্টার দল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ১২০ রান তুলে প্রভসিমরন সিং ও প্রিয়াংশ আর্য সার্জিকাল স্ট্রাইক হানেন কেকেআর শিবিরে। শেষ পর্যন্ত স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২০১। তখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কেকেআর কি চেজ করতে পারবে? তাদের ব্যাটসম্যানরা যে ফর্মে রয়েছেন, তাতে আশাবাদী হওয়াও কঠিন। বিশাল রান তাড়া করতে নেমে নাইটদের স্কোর যখন ১ ওভারে বিনা উইকেটে ৭, আচমকা গঙ্গা পাড় থেকে উঠল দমকা হাওয়া। তারপর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। মাঠ কর্মীরা সুযোগই পেলেন না কভার দিয়ে আউট ফিল্ড ঢাকার। বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ভিজল সবুজ গালিচা। গ্যালারিতে দেখা গেল হুড়োহুড়ি। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সবাই খুঁজছে মাথা গোঁজার আস্তানা। তবুও অনেকে আশায় ছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি থামেনি। শেষ পর্যন্ত ১০.৫৮ মিনিটে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়। একরাশ হতাশা নিয়ে বাড়ির পথ ধরেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু ছাতা নিয়ে তো মাঠে ঢোকা যায় না। তার উপর অনবরত বৃষ্টি। অনেকেই কচি-কাচাদের নিয়ে কীভাবে বাড়ি ফিরবেন, তা ভেবেই উঠতে পারলেন না। সেই সঙ্গে গ্যালারি থেকে দর্শকদের বের করে দেওয়ার হিড়িক দেখা গেল পুলিসের। বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচে রইল দর্শকদের ভোগান্তিও।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাঞ্জাব যে ভুল করেনি, তা কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায়। পাওয়ার প্লে’তে বড় রানের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার প্রভসিমরন সিং ও প্রিয়াংশ আর্য। তাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন, সেট হয়ে গেলে চালিয়ে খেলতে অসুবিধা হবে না। চার-ছক্কা হাঁকাতে শুরু করলেই দিশাহারা হয়ে পড়বে নাইটদের বোলিং। বাস্তবে সেটাই হল। বাঁ হাতি প্রিয়াংশ এবারের আইপিএলের বিস্ময় বালক। ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বুঝিয়েছিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। শনিবার ইডেনেও ঝলসে উঠল তাঁর ব্যাট। পঞ্চাশ করতে তাঁর লাগল মাত্র ২৭ বল। নারিন, বরুণদের রীতিমতো করুণ অবস্থা। তার উপর প্রভসিমরন রীতিমতো রোলার চালালেন কেকেআরের বোলারদের উপর। সুইচ হিটে তাঁকে বাউন্ডার হাঁকাতে দেখে ক্যাপ্টেন রাহানের চোখ ছলছল করছিল। কীভাবে থামাবেন এই ঝড়, যেন বুঝেই উঠতে পারছিলেন না। ৬৯ রানে প্রিয়াংশ আউট হলেও প্রভসিমরন সেঞ্চুরির দিকে এগচ্ছিলেন। তবে শুরুতে তিনি ছিলেন অনেকটা গুটিয়ে। প্রথম ৩৪ আসে ৩২ বলে। আর পরের ১৭ বলে করেন ৪৯ রান। অর্থাৎ রান তোলার জন্য শুধু পাওয়ার প্লে নয়, দরকার সঠিক পরিকল্পনাও। প্রভসিমরন ৪৯ বলে ৮৩ রানে আউট হওয়ার পর অবশ্য রানের গতি মন্থর হতে শুরু করে। কারণ, শ্রেয়স আয়ার তাঁর পুরানো দলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সতর্ক হয়েই খেলছিলেন। প্রথম সাক্ষাতে রান পাননি। তাই ইডেনে মর্যাদার লড়াইয়ে রান পাওয়ায় জোর দিয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া ম্যাক্সওয়েল (৭) ও মার্কো জানসেনকে (৩) নামানোর সিদ্ধান্তও সঠিক ছিল না। তার ফায়দা নেয় কেকেআর। শেষ ছ’ওভারে নাইটরা দেয় মাত্র ৪৩ রান। তুলে নেয় ২টি উইকেট। কিন্তু তারপরও বলতে হবে যে, বোলিং ব্যর্থতাতেই বড় রানের বোঝা চেপেছে নাইটদের কাঁধে। স্কোরবোর্ডে দুশোর বেশি টার্গেট মানেই প্রবল স্নায়ুর চাপ। তা উপেক্ষা করে জয় ছিনিয়ে নেওয়া কঠিন। সে আশা অনেকেরই ছিল না। শেষ পর্যন্ত কালবৈশাখীর ঝোড়ো ইনিংসে বঙ্গবাসীর মতো বাইশ গজে আপাত স্বস্তিতে নাইট ব্রিগেডও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ