নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের আইসি-৮১৪ কাঠমাণ্ডু টু দিল্লি ফ্লাইট ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর টেক অফ করার পরই দেখা গিয়েছিল, পাঁচজন যাত্রী আসলে হাইজ্যাকার! তারা পরস্পরকে কোডনেমে সম্বোধন করছিল আগাগোড়া। চিফ, ডক্টর, বার্গার, ভোলা এবং শঙ্কর। আসলে কারা ছিল তারা? বাহওয়ালপুরের ইব্রাহিম আখতার, করাচির শাহিদ আখতার সইদ, সানি আহমেদ, জহুর মিস্ত্রি এবং সুক্কুরের শাকির। কান্দাহার এয়ারপোর্টে ‘তালিবান যোদ্ধা’ ঘেরা বিমানের হাইজ্যাকারদের গোটা প্ল্যান যে শিখিয়েছিল রউফ আজহার। কান্দাহার অপারেশনের মাস্টারমাইন্ড। অবশেষে সেই রউফ খতম। ২৫ বছর পর। মঙ্গলবার রাতে ভারতের মিসাইল হানায় বাহওয়ালপুরে মাসুদ আজহারের যে ১০ আত্মীয় নিকেশ হয়েছে, সেই তাকিলায় রয়েছে রউফ। যে ওই হাইজ্যাক প্ল্যান করে নিজের দাদা মাসুদ আজহারকে মুক্ত করেছিল ভারতের জেল থেকে। একইসঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল আহমেদ ওমর শাহিদ শেখ এবং মুস্তাক আহমেদ জারগর। মুক্তির পর এই তিন জঙ্গি কমান্ডার জয়েশ, লস্কর এবং আল কায়েদার প্রধান কমান্ডারের দায়িত্ব নিয়ে অসংখ্য সন্ত্রাস ঘটিয়েছে। প্রাণ নিয়েছে শত শত মানুষের। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ওই হাইজ্যাকিংয়ে রূপিন কাটিয়াল নামে ২০ বছরের এক বধূর সিঁথির সিঁদুর মুছে গিয়েছিল। ২১ দিন আগে বিয়ে। স্বামী রূপিনের সঙ্গে হনিমুনে নেপাল গিয়েছিলেন রচনা। রূপিন কাটিয়ালকে প্লেনের মধ্যেই গলা কেটে হত্যা করেছিল অপহরণকারীরা। অপারেশন সিন্দুর সেই রচনা কাটিয়ালের বেদনা এবং ক্রোধের আগুনে কিছুটা হলেও হয়তো প্রলেপ দিল। কারণ হাইজ্যাকিংয়ের মাস্টারমাইন্ড মাসুদের ভাই রউফ আজহার খতম। মুরিদকে মসজিদের বাইরে প্রাচীরে সাধারণত বড় বড় করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় রিক্রুটমেন্টের। ‘জেহাদে যোগ দাও, ইন্ডিয়াকে সবক শেখাও।’ শুক্রবার পাশের পার্কে সভা করে হাফিজ সইদ। জেহাদে টানার জন্য গালভরা বক্তৃতা দেয়। সেই হাফিজ সইদকে লাহোর, মুরিদকে, মুজফফরনগর, রাওয়ালপিন্ডি, কোথাও আর দেখা যাচ্ছে না। অপারেশন সিন্দুরের পর সে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে আইএসআইয়ের গেস্ট হাউসে। একই হাল মাসুদ আজহারেরও। সবেমাত্র হার্ট অ্যাটাক হয়েছে ডিসেম্বর মাসে। একমাস কাটিয়েছে হাসপাতালে। কিন্তু শুধু শতাধিক জঙ্গি নয়, অপারেশন সিন্দুর যে তার পরিবারকেই ধ্বংস করে দেবে, ভাবেনি মাসুদ। সেও আইএসআইয়ের ডেরায় আশ্রিত।



