Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানের কুলটিতে যুবক খুনের মাস্টার মাইন্ড জলপাইগুড়িতে ধৃত

কুলটির শ্যুটআউট কাণ্ডে মাস্টার মাইন্ড গ্রেপ্তার জলপাইগুড়িতে। ধৃতের নাম ফারহা নাজ (২৬)। জলপাইগুড়ি ও আসানসোল পুলিসের যৌথ অভিযানে সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় ওই মহিলাকে।

বর্ধমানের কুলটিতে যুবক খুনের মাস্টার মাইন্ড জলপাইগুড়িতে ধৃত
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও আসানসোল: কুলটির শ্যুটআউট কাণ্ডে মাস্টার মাইন্ড গ্রেপ্তার জলপাইগুড়িতে। ধৃতের নাম ফারহা নাজ (২৬)। জলপাইগুড়ি ও আসানসোল পুলিসের যৌথ অভিযানে সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় ওই মহিলাকে। পাকড়াও করা হয়েছে তার গাড়ির চালক সৈয়দ আখতার ওরফে ফয়জলকে। সেও ওই খুনের ঘটনায় জড়িত বলে দাবি পুলিসের। উদ্ধার হয়েছে লালরঙের একটি গাড়ি। সেটিতে চেপেই ফারহা আসানসোল থেকে জলপাইগুড়িতে পালিয়ে আসে বলে পুলিস সূত্রে খবর। গাড়িটি তার স্বামী আসিফ খানের।

Advertisement

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিস জানিয়েছে, ধৃত মহিলা জমি মাফিয়া। কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি হাতাতেই আসানসোল পুরসভার অস্থায়ী কর্মী ও আত্মীয় জাভেদ বারিককে খুনের ছক কষে সে। জলপাইগুড়িতে বসে ব্লু প্রিন্ট সাজানো হয়। তারপর নিয়োগ করা হয় সুপারি কিলার। পুলিসের দাবি, শ্যুটার পশ্চিম বর্ধমান কিংবা বিহারের হতে পারে। তার খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে। তবে, পুলিস জানতে পেরেছে, স্বামী ও গাড়ির চালককে নিয়ে খুনের ছক সাজিয়েছিল ফারহা। খুনের দিন সম্ভবত সে কুলটিতেই ছিল। অপারেশনের পরই জলপাইগুড়িতে চলে আসে ওই মহিলা। জলপাইগুড়ি শহরের দিনবাজার এলাকায় তার বাপের বাড়ি। কিন্তু সেখানে থাকা নিরাপদ নয় ভেবেই দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বেরুবাড়ি এলাকায় পরিচিতের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল সে। সম্ভবত বাংলাদেশে পালানোর ছক ছিল তার। 
আসানসোলের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পশ্চিম) সন্দীপ কাররা বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আগেই আমরা একজনকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। জলপাইগুড়ি থেকে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জেরা করে এই খুনে আর কারা জড়িত তা জানার চেষ্টা হবে।
পুলিস সূত্রে খবর, জাভেদ বারিকদের কয়েক কোটি টাকার পারিবারিক সম্পত্তি রয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ভক্তিনগর থানা এলাকায়। একসময় জাভেদরা সেখানেই থাকতেন। পরে তাঁরা সপরিবারে কুলটিতে চলে যান। অভিযোগ, জাল কাগজপত্র তৈরি করে জলপাইগুড়ির ওই সম্পত্তি হাতানোর ছক কষে ফারহা ও তার স্বামী। কুলটির বস্তিন বাজারে ফলের ব্যবসা রয়েছে আসিফের। জমি হাতানোর চেষ্টা করায় ফারহার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আসানসোল পুরসভার অস্থায়ী কর্মী জাভেদ বারিক। এনিয়ে সম্প্রতি ফারহার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিসের হাতে গ্রেপ্তারও হয় সে। কিন্তু কিছুদিন জেল খেটে আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায় ওই মহিলা। এরপর জাভেদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে আসিফ ও ফারহা। তারপরেই জাভেদকে মারতে খুনের ছক সাজায় তারা।
গত শুক্রবার রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় খুব কাছ থেকে জাভেদের মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। দুষ্কৃতীরা বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। এ ঘটনায় আগেই পুলিস নিহতের খুড়তুতো ভাই ইন্তেখাব আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। এবার মাস্টার মাইন্ড সহ গ্রেপ্তার হল আরও দু’জন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ