শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: গাড়ির টপ মডেলের জন্য টাকা মেটানো হয়েছে। অথচ ডেলিভারি হয়েছে বেস মডেল। তৃণমূল জমানায় পুলিশের গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এহেন বড়োসড়ো দুর্নীতির বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ, বাড়তি টাকা আবার গাড়ি কোম্পানি থেকে চলে গিয়েছে পূর্বতন শাসক দলের একটা প্রভাবশালী অংশের কাছে। এভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেরিয়ে গিয়েছে কোটি কোটি টাকা। পালাবদলের পর গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই দুর্নীতি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে রাজ্য পুলিশের তরফে। যাদের উদ্যোগে এই গাড়িগুলি কেনা হয়েছে, তার তালিকাও আধিকারিকদের হাতে এসেছে বলে খবর।
মমতা সরকারের আমলে থানা, তদন্তকেন্দ্র, ফাঁড়ি সহ বিভিন্ন দপ্তরে ব্যবহারের জন্য রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার গাড়ি কিনেছে। খাতায়কলমে প্রত্যেকটি গাড়ি টপ মডেলের। কেন্দ্রীয় সরকারের জেম পোর্টালকে বাইপাস করে এগুলি কিনেছিল পূর্বতন সরকার। জেম পোর্টালে কম দামে, কম জ্বালানিতে বেশি কিলোমিটার যাবে এমন গাড়ি ছিল। তারপরেও কম মাইলেজ দেওয়া গাড়ি কেনা হয়েছিল। এরফলে তেলের খাতে সরকারের বিপুল পরিমাণ খরচ হয়। নিয়ম ভেঙে এভাবে গাড়ি কেনার পরেও পূর্বতন সরকার বারবার বলে আসছিল, কেন্দ্র আধুনিকীরণের ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্য দিচ্ছে না। কিন্তু এই গাড়িগুলির কেনার পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তখনই জানা যায়, যে গাড়িগুলি কেনা হয়েছে সেগুলির উৎপাদন কোম্পানি বন্ধ করে দিয়েছে। টপ মডেলের ক্ষেত্রে গাড়িতে যে ধরনের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুরক্ষা থাকা দরকার, কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের কেনা গাড়িগুলিতে তা ছিল না। পূর্বতন সরকারের আমলে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড়সড় কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পালাবদলের পর গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়টি সরকারের কানে তোলে পুলিশেরই একাংশ। এরপরই ‘ছানবিন’ শুরু হয়। গাড়ি কোথা থেকে এসেছে, মডেল কী, কত টাকা পেমেন্ট হয়েছে তার তথ্য নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে আধিকারিকদের নজরে আসে, কোটেশন নেওয়া হয়েছে টপ মডেলের গাড়ির। অর্ডার তাই করা হয়েছে। টাকাও মেটানো হয়েছে। গাড়িগুলি পরীক্ষার সময় ধরা পড়ে সব গাড়িই বেস মডেলের, টপ মডেলের একটিও নয়। তাহলে পেমেন্টের বাড়তি টাকা গেল কোথায়? এরপরই অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয় বলে খবর। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, এর পিছনে একটা বড় নেটওয়ার্ক কাজ করেছে। গাড়ি কোম্পানিগুলির সঙ্গে যোগসাজশ করে এভাবে রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, মোটা অঙ্কের কাটমানি পেয়েছেন সকলেই। এরভাগ তৃণমূলের শীর্ষস্তরে পৌঁছেছে কি না, সেটাই পুলিশ কর্তাদের নজরে।