নয়াদিল্লি: পূর্ব দিল্লির বিবেক বিহারের এক আবাসনে বিধ্বংসী আগুনে প্রাণ গেল ন’জনের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর ৩টে ৪৭ নাগাদ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ৪টে নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌছায় দমকল, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ১২ টি ইঞ্জিন কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস (ডিএফএস) সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাসনের প্রতিটি তলায় দু’টি করে ফ্ল্যাট ছিল। একটি সামনে, অন্যটি পিছনে। মাঝখানে ছিল সিঁড়ি। আগুন লাগে সামনের অংশে। সামনের দিকের মানুষজন দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু পিছনের অংশের বাসিন্দরো তখনও বিষয়টি আঁচ করতে পারেননি। যখন তাঁরা বিষয়টি বোঝেন তখন দেরি হয়ে গিয়েছে। সিঁড়ি তখন আগুনের গ্রাসে। ওই একটিই সিঁড়ি ওঠা-নামার জন্য ব্যবহার হত। আপদকালীন পরিস্থিতিতে পিছন দিয়ে বেরোনোর কোনও আলাদা পথ ছিল না। ব্যালকনিগুলি গ্রিল ও জাল দিয়ে ঘেরা থাকায় সেখান দিয়েও বেরোতে পারেননি কেউ। ফলত পিছনের দিকে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা আটকে যান ভিতরে। ঘুমের মধ্যেই কয়েকজন ঝলসে যান। দমকল বাহিনীর দাবি, দুর্ঘটনার সময় ছাদের দরজাও তালাবন্ধ ছিল। কয়েকজন ওই পথে বেরোনোর চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তাঁরাও আটকে পড়েন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে ছাদের সিঁড়ি থেকে ৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়। উদ্ধারকারীদের অনুমান, ছাদ খোলা থাকলে এঁরা সম্ভবত প্রাণে বাঁচতেন। এছাড়া প্রথম তল থেকে একটি, দ্বিতীয় তল থেকে পাঁচটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের তালিকায় ১ বছরের শিশুও রয়েছে। এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানান, উদ্ধার অভিযানে ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সামান্য আহত দু’জনকে গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পূর্ব দিল্লির বিবেক বিহার জনবহুল এলাকা। একাধিক আবাসন, পার্ক, স্কুল রয়েছে এখানে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশের অনুমান, সম্ভবত এসি বিস্ফোরণের জেরেই আগুন। তবে সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দমকল বাহিনী জানিয়েছে, এখনও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরনজিৎ সিং সান্ধু এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও সবরকম সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।