Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত ৯, জখম বহু

ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে নেমে এল মর্মান্তিক পরিণতি। তারাপীঠে পুজো দিতে এসে পাঁচতলা হোটেলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ৯ জন পুণ্যার্থী।

তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত ৯, জখম বহু
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে নেমে এল মর্মান্তিক পরিণতি। তারাপীঠে পুজো দিতে এসে পাঁচতলা হোটেলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারালেন ৯ জন পুণ্যার্থী। মৃতদের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের দুই শিশু সহ পাঁচ সদস্য। দমকল ও পুলিশের তৎপরতায় ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, হোটেল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি এবং নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ, তারাপীঠ থানার ঠিক পাশে অবস্থিত একটি পাঁচতলা হোটেলে। উত্তরবঙ্গ ও মেঘালয় থেকে আসা পুণ্যার্থীদের একটি দল বৈদ্যনাথ ধামে জল ঢেলে তারাপীঠ এসে ওই হোটেলে ওঠেন। কিন্তু ভোরে হঠাৎই বিকট শব্দ এবং ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখায় জীবন্ত পুড়ে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতরা হলেন, রাজেন্দ্র নাহা (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী আশা নাহা (৪০), দুই নাবালক শিবরাজ মাধোক (১০) ও আশুনাথ  মাধোক (৮) এবং মৃত আশার জামাইবাবু বরুণ মাধোক। এঁদের সকলের বাড়ি মেঘালয়ের শিববাড়ি বাগনারা এলাকায়। এছাড়া রয়েছেন আলিপুরদুয়ারের কমল রায় (৩৫), অমিত পাল (৪৫) এবং সুবীর সাহা (৪৬)। বিকালে রাকেশ শর্মা নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।  তিনি ধূপগুড়ির বাসিন্দা।
মৃত আশা নাহার বোন চণ্ডিকা নাহা জানান, তাঁরা পরিবার সহ মোট সাতজন হোটেলের ৩ তলায় দু’টি ঘরে ছিলেন। ভোরে ‘আগুন আগুন’ চিৎকার শুনে দরজা খুলতেই চারদিক ধোঁয়ায় ভরে যায়। তাঁর দিদি ও জামাইবাবুরা ঘরের ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য আকুতি জানালেও আগুনের দাপটে তাঁদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দমকলের কর্মীরা চণ্ডিকা ও অন্যদের ব্যালকনি থেকে ল্যাডারে নামিয়ে উদ্ধার করলেও, অন্য ঘরে থাকা তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যই অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।
এদিন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তারাপীঠ থানার পুলিশ ও দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। ল্যাডারের সাহায্যে ৩ তলার ব্যালকনিতে আটকে পড়া ৩১ জনকে নিরাপদ স্থানে নামিয়ে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। হোটেল আবাসিকদের অভিযোগ, প্রাণ বাঁচাতে নীচে নামতে গিয়ে দেখা যায়, রিসেপশন লাগোয়া মূল কোলাপসিবল গেটে তালা ঝুলছে এবং চারপাশে আগুনের লেলিহান শিখা। মরিয়া পুণ্যার্থীরা ড্রেন পাইপ, এসি মেশিন এবং পাশের পাম গাছ ধরে নামার চেষ্টা করেন। ছাদের দিকে পালাতে চাইলেও রক্ষা হয়নি। কারণ তার দরজাও কাঠ-প্লাইউড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল। 
উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা তিলক হালদার তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘ভোরের দিকে এসি বন্ধ হয়ে যায়। গোটা ঘর অন্ধকার। নীচে পট পট করে আওয়াজ হচ্ছে। দরজা খুলতেই আগুনের শিখা ঘরে ঢুকে যায়। বেরতে পারিনি। রুমের কোনও জানালা নেই। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম সকলে। পরে বাথরুমে ঢুকে জল চালিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেছি। প্রায় ৪৫ মিনিট পর পুলিশ এসে আমার স্ত্রী, বাচ্চা, বোন ও ৭২ বছর বয়সি মাকে উদ্ধার করে। এত বড়ো হোটেলে কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি।’
সকালেই ঘটনাস্থলে আসেন জেলা পুলিশ সুপার বিদিতরাজ ভুন্দেশ। তিনি জানান, ফায়ার এগজিট এবং ছাদে ওঠার পথ বন্ধ ছিল। সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না, দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই হোটেল মালিক কল্যাণ পালকে আটক করা হয়েছে। বিকালে দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এলাকা পরিদর্শনের পর বলেন, ‘হোটেলের পাশে পুকুরে কেউ লাফ দিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ডুবুরি নামানো হবে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কী ছিল, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ মৃতদের পরিবার পিছু ৯ লক্ষ টাকা (রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের তহবিল থেকে ৪ লক্ষ ও মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫ লক্ষ) এবং আহতদের ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ