লখনউ: ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারপাশ। দাউ দাউ করে জ্বলছে বহুতল। প্রাণ বাঁচাতে উপর থেকে ঝাঁপ দিচ্ছে পড়ুয়ারা। কেউ নীচে রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ছে। আধপোড়া শরীরে কেউ আবার কার্নিশ থেকে বাদুড়ঝোলা অবস্থায়। কিছুক্ষণ পর খসে পড়ল মাটিতে। দগ্ধ, রক্তাক্ত অবস্থায় আর্তনাদ আহতদের। সোমবার এমনই ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের লখনউ। এদিন দুপুরে সেখানকার এক কোচিং সেন্টারে আগুন লেগে মৃত্যু হল ১৫ জনের। জখম অনেকে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিপর্যয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দিনকয়েক আগেই দিল্লির মালব্যনগরে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় একইরকম দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল গোটা দেশ। প্রাণ গিয়েছিল ২১ জনের। এবার লখনউ। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তাদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারি খাতায় বাসভবন হিসাবে নথিভুক্ত থাকলেও বাড়িটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হত।
উত্তর-পশ্চিম লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি বাড়ির গ্রাউন্ড ফ্লোরে রয়েছে পোষ্যদের ক্লিনিক। আর উপরের তলায় কোচিং সেন্টার। সেখানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গেমিং, অ্যানিমেশন পড়ানো হত। এদিন দুপুর তিনটে নাগাদ আগুন লাগে। মুহূর্তে গোটা বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল। একসময় দেওয়াল কেটে ভিতরে ঢুকতে হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে পৌঁছান উপ মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। তিনি জানান, ভিতরে অনেক কাঠের আসবাবপত্র ছিল। কিন্তু ঠিক কোথা থেকে আগুন লাগল,তা জানা যায়নি। ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মৃতদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন তিনি। উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: পিটিআই