Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খানাকুলে আমনের বীজতলা, পাট-সব্জি চাষে ব্যাপক ক্ষতি, ড্রোন উড়িয়ে এলাকা পরিদর্শন প্রশাসনের

নিম্নচাপের বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত হয়েছে খানাকুলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। তার জেরে ক্ষতির মুখে পড়েছে আমনের বীজতলা, পাট ও নানা ধরনের সব্জি।

খানাকুলে আমনের বীজতলা, পাট-সব্জি চাষে ব্যাপক ক্ষতি, ড্রোন উড়িয়ে এলাকা পরিদর্শন প্রশাসনের
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: নিম্নচাপের বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত হয়েছে খানাকুলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। তার জেরে ক্ষতির মুখে পড়েছে আমনের বীজতলা, পাট ও নানা ধরনের সব্জি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন করে ধানের ফলন হবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কাও রয়েছে। কত পরিমাণ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার হিসেব কষতে শুরু করেছে কৃষিদপ্তর। ড্রোন উড়িয়ে এলাকার ক্ষয়ক্ষতি দেখেছেন দপ্তরের আধিকারিকরা। রবিবার দিনভর খানাকুল-১ ও ২ ব্লকের বিভিন্ন মৌজায় ড্রোন উড়িয়ে তার ছবি তোলা হয়। 

Advertisement

কৃষিদপ্তরের হুগলির ডেপুটি ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় মর্দন্য বলেন, কিছু মৌজায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে কম সময়ের মধ্যে ধানের ফলন হয় এমন বীজ বিলির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাটের ক্ষেত্রে বিমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই জন্য মাঠে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ দেখা হচ্ছে। ড্রোন উড়িয়েও তা যাচাই করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
উদ্যান পালন দপ্তরের আরামবাগ মহকুমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পারমিতা রায় বলেন, জলমগ্ন কিছু এলাকায় সব্জির ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। কোথাও আবার জল নেমেও যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দপ্তরের তরফে চাষিদের বীজ দেওয়ার প্রস্তাবও পাঠিয়েছি। 
উল্লেখ্য, রবিবার খানাকুল-১ ব্লকের ঘোষপুর, কিশোরপুর-১ পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকটি মৌজায় ড্রোনের সাহায্য ছবি তোলা হয়। খানাকুল-২ ব্লকেও নন্দনপুর, বাড় নন্দনপুর, জগৎপুর, বলপাই প্রভৃতি এলাকার পরিস্থিতি দেখা হয়। ড্রোনের সাহায্যে জলমগ্ন এলাকাগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তার রিপোর্টও জেলায় পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। 
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, খানাকুল-১ ও ২ ব্লক মিলিয়ে কয়েকশো হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া সব্জির ক্ষেত্রে মাঠে ছিল পটল, ঝিঙে, শসা, বেগুন, উচ্ছে প্রভৃতি ফসল। সেগুলির একাংশে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তারসঙ্গে বেশকিছু এলাকায় পাটচাষেও ক্ষতি হতে পারে।
জগৎপুরের সব্জিচাষি তপন ইশর বলেন, ঢ্যাঁড়শ ও বেগুনের চাষ করেছিলাম। কিন্তু, আচমকা জমি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সবই নষ্ট হতে বসেছে। চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি।
চাষিরা বলেন, ফি বছর বর্ষার সময় আমন ধানের চাষ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ঝুঁকি নিয়েই করতে হয়। কার্যত প্রত্যেক বছরই কৃষিজমি প্লাবিত হয়। এবারও কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় ১০দিন ধরে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাটও প্লাবিত হয়। তার ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নৌকার পাশাপাশি ট্রাক্টর চালাতে হয়। এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় জল রয়েছে। তবে রাস্তা থেকে জল নেমেছে অনেকটাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ