সংবাদদাতা, বেলদা: সুসজ্জিত টোটোয় চেপে ব্যান্ড বাজিয়ে ছাদনাতলায় হাজির বর-কনে। আতসবাজির রোশনাই আর উলুধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা ক্লাবের ১৪তম বর্ষের সরস্বতী পুজো উপলক্ষে এমনই অভিনব গণবিবাহের সাক্ষী থাকলেন বহু মানুষ। প্রথা ভেঙে বিয়ের আসরে পৌরোহিত্য করেন একদল মহিলা পুরোহিত। ক্লাবের মহিলা সদস্যরাই কন্যা সম্প্রদান করলেন।
শুধু গণবিবাহ নয়, প্রতি বছরের মতো এবারও এই মঞ্চ থেকে একগুচ্ছ সামাজিক ও সেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বেলদা ক্লাব। বিয়ের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন এলাকার দুঃস্থ ও মেধাবী পড়ুয়াদের হাতে শিক্ষার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষমদের ট্রাইসাইকেল দেওয়া হয়। মূলত পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতেই ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর এই উদ্যোগ নেয়। এবার গণবিবাহে মেদিনীপুর ছাড়াও ঝাড়গ্রাম ও উত্তর ২৪পরগনার নৈহাটি থেকে আসা মোট ১২জোড়া যুবক-যুবতী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, শুভদৃষ্টি ও মালাবদলের পাশাপাশি সরকারি নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রি করা হয়। নতুন দম্পতিদের ক্লাবের পক্ষ থেকে আসবাবপত্র উপহার দেওয়া হয়। ছিল প্রীতিভোজের আয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দম্পতিদের আশীর্বাদ করেন নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট, এসডিপিও রিপন বল এবং বিডিও কৌশিক প্রামাণিক সহ অন্যান্য অতিথিরা। ক্লাবের পক্ষে সুজিত চক্রবর্তী, দুলাল দে ও চন্দন মান্না বলেন, অভাবের কারণে অনেক পরিবার সেভাবে বিয়ের আয়োজন করতে পারে না। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের প্রসারে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।