সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ম্যাট্রিমনি সাইটে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে হুগলির তরুণী ও তার পরিবারের ৪৪ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে আগেই দু’জনকে গ্ৰেফতার করেছিল হুগলি জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম সেল। এবার চক্রের মূল পান্ডাকে মন্দারমণির একটি রিসর্ট থেকে গ্ৰেফতার করল পুলিশ। অভিযুক্তের নাম জামির আব্বাস (৩৭)। বাড়ি হুগলির খানাকুলে। ম্যাট্রিমনি সাইটে সে নিজেকে অনুপম পরিচয় দিয়েছিল।
এর আগে ১০ জুলাই প্রতারণা চক্রের দু’জনকে গ্ৰেফতার করেছিল পুলিশ। তাদের একজন অভিষেক রায়, বাড়ি ঝাড়খণ্ডের দেওঘর। গড়িয়াতেও ফ্ল্যাট রয়েছে তার। অন্যজন জাহির আব্বাস, বাড়ি হুগলির খানাকুল। এরা জামিরের ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা চক্র চালাত।
বৃহস্পতিবার কামারকুণ্ডুতে সাংবাদিক বৈঠক করেন হুগলি গ্রামীণের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সরকার। তিনি জানান, চলতি বছরের ২৬ মে অভিযোগ দায়ের হয়। তাতে বলা হয়েছিল, ম্যাট্রিমনি সাইটে এক তরুণী অ্যাকাউন্ট খোলেন ২০২৪ সালে। সেখানেই ডিসেম্বর মাসে পরিচয় হয় অনুপম রায়ের সঙ্গে। সে দক্ষিণ কলকাতার চাল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। বিয়েও প্রায় পাকা হয়ে যায়। দুই পরিবারের ফোনে কথা চলত। তবে কোনওদিন দেখা হয়নি। অনুপম ফোনেই দুই ম্যানেজারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় তরুণীর। তারাই হল জাহির ও অভিষেক। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অভিযুক্ত জানায়, জিএসটি ও অন্যান্য ট্যাক্স জমা দিতে না পারায় তার সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। টাকার প্রয়োজন, সহযোগিতা চায় মহিলার পরিবারের কাছে। কয়েক দফায় তরুণীর পরিবার ৪৪ লক্ষ টাকা পাঠায় অনুপম ওরফ জামিরকে। তার কিছুদিনের মধ্যেই যুবক ম্যাট্রিমনির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। ফোনেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিছুদিনের মধ্যেই তরুণী বুঝতে পারেন, প্রতারিত হয়েছেন। পুলিশের দারস্থ হয় তাঁর পরিবার। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। টাকা লেনদেনের তথ্য দেখে অভিষেক রায়কে চিহ্নিত করা হয়। যার বাড়ি দেওঘরে। গড়িয়াতেও তার একটি ঠিকানা রয়েছে। মডেলিংয়ের শখ রয়েছে তার। ৩ জুলাই অভিষেকে গ্রেফতার হয়। তার অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল ৩২ লক্ষ টাকা। জিজ্ঞাসাবাদের পর ১০ জুলাই খানাকুল থেকে জাহির আব্বাসকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু মূল অভিযুক্তকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জামির বিয়ের নাম করে একাধিক তরুণীর সঙ্গে এই ধরনের সম্পর্ক তৈরি করে। পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করে তাঁদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করত। ১৪ অক্টোবর তাকে চন্দননগর আদালতে তোলা হয়। সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নিজস্ব চিত্র