Bartaman Logo
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিযায়ী পাখিদের দ্বিতীয় নিবাস ইটাহারের মারনাই

কুলিক পক্ষী নিবাসের পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসাবে উঠে আসছে ইটাহারের মারনাই গ্রাম।

পরিযায়ী পাখিদের দ্বিতীয় নিবাস ইটাহারের মারনাই
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: কুলিক পক্ষী নিবাসের পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসাবে উঠে আসছে ইটাহারের মারনাই গ্রাম। গত কয়েক বছর ধরে গ্রামের হাসপাতাল, জমিদার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় বহু ধরনের দেশি, বিদেশি পরিযায়ী পাখি আসছে। এই বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে সীমাবদ্ধ ছিল ওই গ্রামের মধ্যে। কিন্তু দিনে দিনে লোকমুখে পাখি আগমনের খবর ছড়াতে শুরু করে। রায়গঞ্জ বনবিভাগ ওই এলাকার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে ওই এলাকায় পক্ষীপ্রেমী পর্যবেক্ষক আসতে শুরু করেছে। আগামীতে মারনাই গ্রামে পরিযায়ী পাখিরা যাতে নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে আসতে পারে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। তাদের বসবাসের পরিবেশ বজায় রাখার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাদের জীবনচক্র যাতে সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে সেদিকে নজর রয়েছে স্থানীয় পক্ষীপ্রেমী, পরিবেশপ্রেমীরা। সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলতে  উদ্যোগী হয়েছে বনবিভাগ। 

Advertisement

প্রতিবছর মে মাস থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি মারনাই গ্রামে আসতে শুরু করে। গ্রামের বিভিন্ন গাছে তারা বাসা বাঁধে। বর্ষায় প্রজনন করে অক্টোবর মাসের শেষে এরা চলে যায়। বিশেষ করে ইগ্রেট, নাইট হেরোন সহ বকজাতীয় পাখি বেশি সংখ্যা দেখা যায় মারনাইতে। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে পানকৌড়ি প্রজাতির পাখিরও দেখা মিলতে শুরু করেছে।
মারনাই গ্রামের প্রবীণ পরিবেশকর্মী তথা পক্ষীপ্রেমী অক্ষয় পাল বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা থাকলেও মারনাই গ্রাম প্রচারে আসেনি। বিগত কয়েক বছর ধরে মানুষ এই গ্রামের কথা জেনেছে। এখন দূরদূরান্ত থেকে পক্ষীপ্রেমীরা পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য আসছেন। অনেকে ছবি তোলার জন্য আসেন। গ্রামবাসীদের মধ্যে পাখি নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা আছে। তাঁদের সদিচ্ছতেই বছরের পর বছর ধরে পরিযায়ী পাখিগুলি সুরক্ষিত থাকে। অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরাও যথেষ্ট উদ্যোগী। কয়েকবার বাইরের পাখি শিকারিদের হানা চলেছে। কিন্তু স্থানীয়রা তা রুখে দিয়েছেন। আমাদের বিশ্বাস কুলিক পক্ষীনিবাসের মতো একদিন মারনাই গ্রামও এই পরিযায়ী পাখিদের জন্য অনেক পরিচিতি লাভ করবে।
রায়গঞ্জ বনবিভাগের ডিএফও ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, যেহেতু ওই গ্রামে ব্যক্তিগত জায়গার গাছগাছালিতে পরিযায়ী পাখি বাসা করতে শুরু করেছে তাই আমরা সেখানে যথাসম্ভব নজর রাখি। স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পাখি রক্ষার বার্তা ছড়ানো হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ