


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলি জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে যে সব বাজার রয়েছে, তার ভাড়ার টাকা অনাদায়ী হয়ে পড়ে রয়েছে। এই অনাদায়ী টাকার পরিমাণ প্রায় ৪০ লক্ষ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদ তার নিজস্ব তহবিলের টাকায় জেলাজুড়ে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়েছে। উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়ে এখন বিড়ম্বনায় পড়েছেন জেলা পরিষদের কর্তারা। এই সময় ওই টাকা তহবিলে থাকলে আরও কিছু কর্মসূচি হাতে নিতে পারতেন তাঁরা। জেলা পরিষদের কর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বকেয়া আদায়ে তৎপর হয়েছে জেলা পরিষদ। এই টাকা কেন এতদিন বকেয়া পড়ে রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই বেশ কিছুটা বকেয়া উদ্ধার করেছি। তবে এখনও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। পরিষদের তরফে বিশেষ টিম গড়ে এই টাকা দ্রুত কোষাগারে জমার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে উন্নয়নের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই কার্যকরের চেষ্টা চলছে। মার্চ মাস থেকে একাধিক নতুন কাজে হাত দেবে জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, আমরা নিজস্ব তহবিলকে আরও মজবুত করতে বিশেষ পরিকল্পনা করেছি। যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাঁদের গাফিলতির কারণেই ভাড়ার টাকা আদায় হয়নি। এসব মোটেই বরদাস্ত করা হবে না। বকেয়া টাকা আদায়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, প্রাপ্য টাকা কেন বকেয়া থাকছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হুগলি জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলি জেলায় সাতটি বাজার লিজে দিয়েছিল জেলা পরিষদ। সম্প্রতি দু’টি বাজারের লিজ নবীকরণ হয়নি। সেই সমস্যা মেটানোর কাজ গত বছরই শুরু করা হয়েছে। কিন্তু বাকি পাঁচটি বাজারের ভাড়ার টাকা আর আদায় হয়নি। সম্প্রতি স্থানীয়দের দাবি মেনে জেলা পরিষদ নিজস্ব তহবিল থেকে কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তখন কোষাগারের হাল-হকিকত দেখতে গিয়ে বকেয়ার অঙ্কটি সামনে আসে। এরপরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওই টাকা উদ্ধারে নেমেছেন জেলা পরিষদের কর্তারা। ইতিমধ্যেই এই কাজে কিছুটা সাফল্য এসেছে। এখনও সিংহভাগ টাকা আদায় করা বাকি। যা কর্তাদের মাথাব্যথা বাড়িয়েছে।