Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খিদিরপুরে ভস্মীভূত বাজার, গভীর রাতে ভয়াবহ আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০০ দোকান

রবিবার গভীর রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড খিদিরপুর অরফ্যানগঞ্জ মার্কেটে। বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ দোকান আগুনে পুড়ে গিয়েছে বলে অনুমান। দমকলের ২০টি ইঞ্জিন সারারাতের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

খিদিরপুরে ভস্মীভূত বাজার, গভীর রাতে ভয়াবহ আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০০ দোকান
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০৫

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার গভীর রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড খিদিরপুর অরফ্যানগঞ্জ মার্কেটে। বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ দোকান আগুনে পুড়ে গিয়েছে বলে অনুমান। দমকলের ২০টি ইঞ্জিন সারারাতের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সোমবার সকাল পর্যন্ত কয়েকটি জায়গায় আগুন জ্বলছিল। তারপরও দীর্ঘক্ষণ ধরে চলেছে কুলিং পর্ব। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সোমবার দুপুরে বিধানসভা থেকে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেন। নতুনভাবে বাজার তৈরি করে দেওয়ার কথাও জানান। এলাকার ব্যবসায়ীদের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করার বিষয়ে কিছু পরামর্শও দেন। অন্যদিকে মার্কেটের কত সংখ্যক দোকান পুড়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। সরকারি সূত্র মোতাবেক, প্রায় ৫৫ কাঠা জায়গাজুড়ে থাকা অরফ্যানগঞ্জ মার্কেটে এক হাজার ৩১১টি দোকান আছে। তার মধ্যে ৬০০ থেকে ৭০০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের যদিও দাবি, হাজারেরও বেশি দোকান পুড়েছে। ২০২২ সালে কলকাতা পুরসভার অধীনে আসে বাজারটি। আগুন লাগার পর রাতে ঘটনাস্থলে যান কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সঙ্গে ছিলেন কাউন্সিলার দেবলিনা বিশ্বাস।ফ,ে আগ মেয়র জানান, সব দোকানদারের থেকে কাগজপত্র নেওয়া হবে। সকলের ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র খতিয়ে দেখে নতুন বাজার তৈরি করে পুনর্বাসন দেওয়া হবে। 
রবিবার রাত একটা নাগাদ খিদিরপুর বাজারের ওই অংশে আগুন লেগেছে দেখতে পান কয়েকজন। সেখানে মূলত ঘি, মাখন, ডিম, চাল-ডালের দোকান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চোখের পলকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় অচিরেই তা বিধ্বংসী আকার নেয়। আতঙ্কে এলাকাজুড়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বিরাট কেশরী, সন্দীপ পাল নামে দুই দোকানদার বলেন, ‘আমরা ছুটে আসি। কিন্তু দোকান থেকে কিছু বের করা যায়নি।’ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা অগ্নিকাণ্ডের পিছনে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ‘আগুন লাগানো হয়েছে।’ কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা যদিও বলেন, ‘কী কারণে আগুন লাগল তা তদন্তসাপেক্ষ।’
অন্যদিকে দমকল এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ব্যবসায়ীদের একাংশ। আর দমকল জানিয়েছে, ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় গাড়ি প্রবেশে সমস্যা হয়। একাধিক দোকানে তেল সহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। তাই আগুন দ্রুত ছড়ায়। গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটেও বিপত্তি বাড়ে। সবমিলিয়ে ব্যাহত হয় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘গাড়ি এসে পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগে। দোকান বসানোর সময় কেউ কোনওদিন নিয়ম মানেন না। আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। কী ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হবে।’ লালবাজার সূত্রে খবর, দমকলকে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হবে। অন্যদিকে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ব্যবসায়ীদের তরফে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তাঁরা কোনও অভিযোগ জানালে তারও তদন্ত হবে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে যাবে ফরেনসিক টিম। 

সম্পর্কিত সংবাদ