শিবা সিং (ব্যবসায়ী)
শিবা সিং (ব্যবসায়ী)
কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। চোখের সামনে দেখলাম দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। কিছু জিনিস যে দোকান থেকে বের করব তার কোনও সুযোগই পেলাম না! দোকানের ভিতর কয়েক হাজার ডিম ছিল। পাশে ছিল মাখনের ফ্রিজার। কিছুই আর আস্ত নেই। আমার বাড়ি অরফ্যানগঞ্জ মার্কেটের কাছেই, মনসাতলা লেনে। রাত তখন দেড়টার মতো। মোবাইলে ওয়েব সিরিজ দেখছিলাম। ঘুম চলে এসেছে। হঠাৎ একজনের ফোন। তাঁর কথা শুনে মাথায় বাজ পড়ল। আগুন লেগেছে। এমন আগুন কখনও দেখিনি। স্কুটার নিয়ে পড়িমড়ি করে পৌঁছলাম। সেখানকার ছবি দেখে ভয় ধরে যায়। দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। শিখা আকাশে উড়ছে। সে কি তাপ! দোকানের কাছে যাওয়াই যাচ্ছে না। আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল খুব দ্রুত। আমরা ছুটোছুটি করছি। সবার এক অবস্থা। কয়েকদিন আগেই ২৫ হাজার টাকার মাল তুলেছিলাম। সব পুড়ে শেষ হয়ে গেল। কিছুই আর আস্ত রইল না। পরপর থাকা সবক’টি দোকান পুড়ে ছাই। এতবড় আগুন যে কোনওদিন লাগতে পারে ভাবাও যায়নি। মনে হচ্ছে কেউ চক্রান্ত করে আগুন লাগিয়েছে। শুনছি, কোনও একটি দোকানের ফ্রিজারের কমপ্রেসার বার্স্ট করে আগুন লেগেছে। তবে আমরা কি করে বলব। বলবে তো পুলিস, দমকল, ফরেনসিক টিম। ততক্ষণ পর্যন্ত কোনওকিছু স্পষ্ট হবে না।
নতুন করে দোকান সাজাতে গেলে বড় ধাক্কা খাব। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষতিপূরণের কথা বলেছেন। নতুন বাজার বানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তার আগে এখন অস্থায়ী দোকান তো করতে হবে। তা কোথায় বানানো হবে? কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না।