একেবারে দাম নেই গাঁদাফুলের, বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচই উঠছে না লালবাগের চাষিদের
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: পুজোর মরশুমে দাম নেই গাঁদাফুলের। বাজারে জলের দামে বিকোচ্ছে ফুল চাষিদের কষ্টের ফসল। দুর্গাপুজোর সময়ে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি গাঁদাফুলের দাম ছিল ১৫-২০ টাকা। পুজো মিটতেই দাম নেমে এসেছে প্রতি কেজি ৭-৮ টাকায়। প্রতিদিন এই দামটুকু যে পাওয়া যাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। দিনের শেষে বিক্রি না হলে বাজারের এক কোণে বা রাস্তার পাশে ফেলে একপ্রকার খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে ফুল চাষিদের। স্বাভাবিকভাবেই লাভ তো দূরের কথা জমি থেকে বাজারে নিয়ে আসার খরচাই উঠছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেক চাষি ফুল তুলছেন না। ফলে গাছেই ফুল শুকিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাঁজ মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমার ফুল চাষিদের। ফুলের বাজারে ব্যাপক মন্দা দেখা দিলেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা তাঁদের। 

Advertisement

জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পুজোর আগে টানা নিম্নচাপের বৃষ্টি হলে গাছের ক্ষতি হয়। ফলে ফলনে প্রভাব পড়ে। এবছর নিম্নচাপজনিত বৃষ্টির সমস্যা না থাকায় গাঁদাফুলের ভাল ফলন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে দুর্গাপুজোর আগেই বাজারে চাহিদার থেকে জোগান বেশি থাকায় চাষিরা দাম পাচ্ছেন না। 
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লালবাগ মহকুমার মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের পন্ডিতবাগ, কমলবাগ, নশিপুর, বেলেপুকুর, কুঠিয়াপাড়া, সন্ন্যাসীডাঙা, আমুইপাড়া, কুর্মিটোলা প্রভৃতি এলাকায় গাঁদা ফুলের চাষ হচ্ছে। কম খরচে লাভজনক গাঁদাফুল চাষে প্রতি বছর বেশি সংখ্যক চাষি ঝুঁকছেন। বর্ষার ক্ষতি সামলে পুজোর মরশুমে লাভের মুখ দেখার আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষিরা। কিন্তু ব্যাপক ফলন হওয়ায় পুজোর আগে থেকেই ফুলের বাজারে মন্দা শুরু হয়েছে। 
মুর্শিদাবাদ থানার কুঠিয়াপাড়ার মাধব মণ্ডল গত কয়েক বছর ধরে এক বিঘে জমিতে গাঁদাফুলের চাষ করছেন। তিনি বলেন, পুজো থেকে ফুলের বাজার মন্দা। লেবার দিয়ে ফুল তুলে পাইকারি বাজারে ৭-৮ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। 
কুর্মিটোলার ফুল চাষি বিধান দাস বলেন, জমি থেকে ফুল তোলার জন্য একজন শ্রমিককে ৩৫০-৪০০ টাকা দিতে হয়। এখন এক কুইন্ট্যাল ফুল বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি ও ফুল বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচও উঠছে না। স্বাভাবিকভাবেই অনেক চাষি ফুল তুলছেন না। 
নশিপুর টেঁকপাড়ার ফুল চাষি অরিজিৎ মণ্ডল বলেন, অন্য বছর পুজোর মরশুমে প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি ফুল বিক্রি হত। অথচ এবছর দিনে কুড়ি কেজিও বিক্রি হচ্ছে না। বিকেল নাগাদ অবিক্রিত ফুল ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরতে  হচ্ছে।