Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্ধকারে কাগজপত্র লোপাটের অভিযোগ মাড়গ্রামের পঞ্চায়েতে

মাড়গ্রামে রাতের অন্ধকারে কাগজপত্র লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিডিও ও পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। বিস্তারিত পড়ুন।

অন্ধকারে কাগজপত্র লোপাটের অভিযোগ মাড়গ্রামের পঞ্চায়েতে
  • ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাতের অন্ধকারে তথ্য লোপাটের অভিযোগ। কাঠগড়ায় বিডিও এবং পঞ্চায়েত প্রধান। ঘটনাস্থল মাড়গ্রামের তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত অফিস। অভিযোগ, বুধবার রাত সাড়ে ন›টা নাগাদ নদীয়ার রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি গাড়িতে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি আচমকাই পঞ্চায়েতে ঢুকে সেখান থেকে জরুরি কাগজপত্র নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে পঞ্চায়েতে কোনো নাইটগার্ড ডিউটিতে ছিলেন না। তবে পঞ্চায়েতের প্রাক্তন কর্মী মিনারুল শেখ যিনি বর্তমানে অন্য জায়গায় কর্মরত হলেও রাতে পঞ্চায়েতের একটি ঘরে থাকেন, তিনিই দরজা খুলে দেন। অভিযোগ, এরপরই পঞ্চায়েত থেকে একাধিক তথ্য-প্রমাণ লোপাট করে চম্পট দেয় ওই ব্যক্তিরা। এমনকি, পঞ্চায়েতের বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙা অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। 

Advertisement

এদিন সকালে এনিয়ে তুমুল হইচই পড়ে যায়। স্থানীয়রা জানতে পারেন, রাতে বিডিও অফিসের লোক গাড়ি করে এসেছিল। এরপরই  ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির নেতা, কর্মীরা পঞ্চায়েতের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। 
বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রান্তিক দাসের অভিযোগ, পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সম্প্রতি প্রতিটি পঞ্চায়েতে ‘স্পেশাল অডিট’-এর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অডিটের ভয়েই রাতের অন্ধকারে বিডিও-র লোকজনকে দিয়ে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি ঢাকতে তথ্য গায়েব করা হয়েছে। বিজেপি সদস্য বীরেন মালের প্রশ্ন,  যিনি পঞ্চায়েতের কর্মীই নন, তাঁর কাছে চাবি কেন থাকবে? বিডিও সাহেবের যদি কাগজপত্র নেওয়ার বা দেওয়ারই ছিল, তবে তা বিরোধী সদস্য বা পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মীদের না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে গোপন রাখা হল কেন?
এদিন বিক্ষোভের মুখে পড়ে রীতিমতো ঘেরাও হতে হয় তৃণমূল প্রধান মনিমালা সরকারের স্বামী সুজিত সরকারকে। নিজের সাফাই দিয়ে তিনি জানান, বিডিও সাহেব রাতে ফোন করে কাগজপত্র পাঠানোর কথা বললে তিনি রাতে অফিস না খুলে বৃহস্পতিবার সকালে পাঠাতে বলেছিলেন। কিন্তু তারপরেও কীভাবে অফিস খোলা হল, তা তিনি জানেন না। ওই পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিট্যান্ট নূর আলম বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়া রাতে অফিস খোলার নিয়ম নেই। যদি বিডিও সাহেব লোক পাঠাতেন, তবে অন্তত আমাকে জানানো উচিত ছিল। পরে শুনলাম জন্ম, মৃত্যু ভেরিফিকেশনের পুরানো কাগজ ফেরত দিতে নাকি বিডিও-র লোক এসেছিল।
অন্যদিকে, বিডিও অর্ঘ্য দত্ত বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুলিশি তদন্তের প্রয়োজনে জন্ম-মৃত্যু সংক্রান্ত কাজ শুরুর কথা ছিল। সেই কাজের সুবিধার্থেই আমাদের কাছে এই সংক্রান্ত কিছু ভেরিফিকেশন করে রাখা কাগজপত্র রাতে ফেরত পাঠানো হয়। দিনে বা রাতে অন্য কর্মীদের ডাকার সময় ছিল না, তবে রাতে প্রধানকে জানানো হয়েছিল। কোনো তথ্য লোপাট হয়নি। 
এবিষয়ে জানতে মিনারুল শেখকেও ফোন করা হয়। যদিও সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এদিকে এদিন বিক্ষোভ চলাকালীন পঞ্চায়েতে আসে পুলিশের একটি দল। এগজিকিউটিভ অ্যাসিট্যান্ট বলেন, প্রধানের উপস্থিতিতে বিগত দিনের জন্ম ও মৃত্যুর যাবতীয় রেজিস্টার সিজ করেছে পুলিশ। নতুন করে শংসাপত্র ইস্যুর জন্য বিডিওর সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন রেজিস্টার মেইনটেন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ