নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিনিয়োগের টোপ গিলে দু’কোটির বেশি টাকা খোয়ালেন গড়িয়াহাটের এক ব্যবসায়ী। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লালবাজারের হাতে গ্রেপ্তার হলেন কৈলাশ ভই নামে এক মার্বেল ব্যবসায়ী। ব্যবসার আড়ালে তিনি সাইবার জালিয়াতির টাকা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রাখতেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার টাকা ঢুকেছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তের সঙ্গে ভিন রাজ্যের যেসব সাইবার প্রতারকদের যোগাযোগ রয়েছে, ধৃতকে জেরা করে তাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস তিনেক আগে ওই ব্যবসায়ীর ফোনে একটি মেসেজ আসে। তাতে বলা হয়, বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বিপুল পরিমাণ রিটার্ন মিলবে। এরপর তাঁকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। জালিয়াত চক্রের লোকজন মেসেজ করে জানাতে থাকে, তারা অল্পদিনে কত বেশি টাকা রোজগার করেছে। এরপর বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম কত যাচ্ছে, তা তুলে ধরে প্রতারকরা। আসলে এই তথ্য যে ভুয়ো, তা বুঝতে পারেননি অভিযোগকারী। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে প্রথমে অল্প বিনিয়োগ করেন। প্রথম প্রথম রিটার্নও পান। তাঁকে বলা হয়, আরও বেশি করে বিনিয়োগ করতে। প্রতারকদের টোপ গিলে তিনি ধাপে ধাপে ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে বসেন। তাঁকে দেখানো হয়, যেখানে বিনিয়োগ করেছেন, সেই কোম্পানির শেয়ার ভালো পারফর্ম করছে। নির্দিষ্ট সময় পর ওই ব্যবসায়ী টাকা তুলতে চাইলে বলা হয়, এখন তোলা যাবে না। তারপর প্রতারকরা জানায়, আরও বিনিয়োগ করলে তবেই টাকা তুলতে পারবেন তিনি। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে ঘোরাতে থাকে অভিযুক্তরা। কিছুদিন বাদে তাঁকে গ্রুপ থেকে বের করে দেয় জালিয়াতরা। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে গড়িয়াহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কেস রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। পরে তদন্তভার হাতে নেয় লালবাজার।
তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারেন, এই টাকা ঢুকেছে একটি মার্বেল কোম্পানির অ্যাকাউন্টে। এক মহিলার নামে সেটি খোলা হয়েছে। কিন্তু অ্যাকাউন্টের সংযোগকারী নম্বরটি হল কৈলাশ নামে এক ব্যক্তির। তদন্তে জানা যায়, ওই মার্বেল কোম্পানির মালিক কৈলাশ। তাঁর অ্যাকাউন্টে অভিযোগকারীর ২১ লক্ষ টাকা ঢুকেছে। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাইবার জালিয়াতদের যোগাযোগ রয়েছে। বুধবার রাতে তাঁকে মধ্য কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ওই অ্যাকাউন্ট তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন। অনলাইন সূত্রে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের সাইবার জালিয়াতদের যোগাযোগ হয়। টাকার লোভেই তিনি এই কাজ করতেন। কমিশন কেটে প্রতারণার টাকা তিনি প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন বলে জানা গিয়েছে।