Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বান্দোয়ানে মাওবাদী পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য

রক্তঝরা অতীত উস্কে মাওবাদী পোস্টার পড়ল বান্দোয়ানে! সামনেই বিধানসভা ভোট। তার ঠিক আগে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বান্দোয়ানের যশপুরে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোষ্টার উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়।

বান্দোয়ানে মাওবাদী পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: রক্তঝরা অতীত উস্কে মাওবাদী পোস্টার পড়ল বান্দোয়ানে! সামনেই বিধানসভা ভোট। তার ঠিক আগে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বান্দোয়ানের যশপুরে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোষ্টার উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে ঠিকাদারদের দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে পোষ্টারগুলিতে। সবারই গণ আদালতে বিচার হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। 

Advertisement

বান্দোয়ানের কুমড়া অঞ্চলের যশপুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় রয়েছে। অনতি দূরে রয়েছে একটি প্রাথমিক স্কুল। রবিবার সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান, পার্টি অফিস ও স্কুলে দেওয়ালে পোস্টারগুলি লাগানো ছিল। সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা। খবর পেয়ে পুলিশ তড়িঘড়ি পোষ্টারগুলি উদ্ধার করে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পোস্টারের শুরুতেই নাম রয়েছে তৃণমূলের কুমড়া অঞ্চলের সভাপতি ভবতোষ দাসের। তাঁর পাশে লেখা, ‘পার্টির নাম করে টাকা খাওয়া।’ তারপরেই নাম রয়েছে সুধাংশু মহাপাত্রের। তিনি সিপিএম নেতা। পঞ্চায়েতের টাকা খাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার নেতা অনিল হাঁসদার এবং কংগ্রেস নেতা জগবন্ধু সিং মানকীর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ। পোস্টারে নাম থাকা শম্ভু মানকী একজন ঠিকাদার। তাঁকে মিরজাফর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পোস্টারগুলিতে মোট ৮ জনের নাম রয়েছে। সেই সঙ্গে শেষ ও শুরুতে লেখা রয়েছে ‘মাওবাদী জিন্দাবাদ’। ওদের সবাইকে গণ আদালতে বিচার হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বান্দোয়ানের কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েত মহাজোটের দখলে। কংগ্রেস, সিপিএম এবং ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার মিলিজুলি বোর্ড। ৯টির মধ্যে ৪টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকায় তৃণমূল। কুমড়া অঞ্চলে সব দলের নেতাদের নামেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পোস্টার সাঁটানো  হয়েছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নানা চর্চা চলছে। ভোটের আগে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এরকম করা হচ্ছে বলে মত অধিকাংশের। এবিষয়ে ভবতোষ দাসের প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলেও মোবাইল ছিল সুইচঅফ। পোস্টারে নাম থাকা আর এক তৃণমূল কর্মী সঞ্জয় পাত্র বলেন, পোস্টারে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সেগ‌ুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভোটের আগে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই একরম পোস্টার মারা হয়েছে। তাছাড়া ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল তো বিরোধী আসনে।’  
তৃণমূলের বান্দোয়ান ব্লকের সভাপতি জগদীশ মাহাত বলেন, ‘পোস্টার পড়েছে একথা ঠিক। তবে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবিলা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব দলের নেতাদেরই তো নাম রয়েছে পোস্টারে। তা হলে দুর্নীতির অভিযোগ ঠিক কার বা কাদের বিরুদ্ধে, তা স্পষ্ট নয়।’ এবিষয়ে কুমড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে মহাজোটের অন্যতম পরিচালক অনিল হাঁসদা বলেন, ‘আমার নিজের নামও পোস্টারে রয়েছে দেখছি। ঠিক কী কারণে নাম দেওয়া হয়েছে, তা জানিনা। পঞ্চায়েতের সমস্ত বিষয় পরিচালনা করি। কোনও দুর্নীতির আমার যোগ নেই।সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতেই কেউ এরকম করছে। ঝাড়গ্রামেরও কিছু জায়গায় দরজায় ধাক্কা মারার কথা কয়েকদিন আগে শোনা যাচ্ছিল। তারপর এরকম ঘটনা ঘটল। মাওবাদীরা এলাকায় না থাকলে কারা এ কাজ করেছে, তা স্পষ্ট না হলেও উদ্বেগ তো থাকছেই।’ এবিষয়ে জানতে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারিকে ফোন করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মেসেজেরও কোনও উত্তর দেননি।

সম্পর্কিত সংবাদ