Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সৌদি আরব ও দুবাইয়ে কাজে গিয়ে নিখোঁজ বহু শ্রমিক, উদ্বিগ্ন পরিবার, কোথায় গেলে সন্ধান মিলবে জানেন না আত্মীয়রা

বিদেশে গিয়ে নিরুদ্দেশ হচ্ছেন একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিক। কেউ ছ’ মাস আবার কেউ কেউ দু’-তিনমাস ধরে নিরুদ্দেশ

সৌদি আরব ও দুবাইয়ে কাজে গিয়ে নিখোঁজ বহু শ্রমিক, উদ্বিগ্ন পরিবার, কোথায় গেলে সন্ধান মিলবে জানেন না আত্মীয়রা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিদেশে গিয়ে নিরুদ্দেশ হচ্ছেন একের পর এক পরিযায়ী শ্রমিক। কেউ ছ’ মাস আবার কেউ কেউ দু’-তিনমাস ধরে নিরুদ্দেশ। উদ্বেগে তাঁদের পরিবারের লোকেরা। কোথায় গেলে খোঁজ মিলবে, বুঝতে পারছেন না পরিজনেরা। হাই কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনও উপায় নেই অসহায় পরিবারের সদস্যদের। 

Advertisement

কান্দির খোসবাসপুরের বাসিন্দা সেন্টু শেখ এক বছর আগে শ্রমিক হিসেবে একটি কোম্পানির কাজে আবু ধাবিতে যান। ২৬ জুলাই থেকে তাঁর কোনও খোঁজ নেই। তাঁর স্ত্রী তারজিফুল বিবি বলেন, আমার স্বামী এক বছর আগে গোকর্ণের এক দালাল মারফত এই কাজ পেয়েছিল। মোটা টাকা দিতে হয়েছিল। তারপর গত আড়াই মাস ওর কোনও খোঁজ পাচ্ছি না। আমি এখানে দুই মেয়েকে নিয়ে কোনও ভাবে দিন কাটাচ্ছি। 
কান্দির হাটপাড়ার বাসিন্দা মুলুক চাদ শেখ দুবাইতে সাফ সাফাইয়ের কাজে গিয়েছিলেন। গত দেড় মাস যাবৎ তাঁরও কোনও খোঁজ নেই। যে কোম্পানি কাজ দেবে বলে ওঁকে নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে তিনি কাজ পাননি। অন্যত্র কাজ পাওয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। যুবকের মা তানজিরা বিবি শেখ বলেন, আমার স্বামী নেই। ছেলে গত ন’ মাস আগে দুবাই গিয়েছিল লেবারের কাজে। সেখানে সে সাফাইয়ের কাজে গিয়েছিল। গত দেড় মাস থেকে ছেলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। আমার ছেলেকে ওই কোম্পানি কাজ দেয়নি। আমি ছেলেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে পাঠিয়েছিলাম। এখন কোথায় আছে, কীভাবে আছে কিছুই জানি না। আমি চাই আমার ছেলেকে দুবাই থেকে খুজে বের করে ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক। 
কান্দির গোবরহাটির বাসিন্দা গোলাম আম্বিয়া পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবের রিয়াধ শহরে লন্ড্রিতে কাজে গিয়েছিল। গত ১২ জুন থেকে ছেলের কোনও খোঁজ পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা। তাঁর বাবা আব্দুল মতিন বলেন, আমার একমাত্র ছেলে আম্বিয়া। আমি কাজ করতে পারি না। ছেলের টাকাতেই সংসার চলে। ছেলে এখন কোথায় আছে সেটাই জানি না। ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আমি মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক দিক থেকে ভেঙে পড়েছি। আমার স্ত্রী ছেলের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
বেলডাঙার বাসিন্দা আজহারউদ্দিন শেখ সৌদি আরবে গিয়েছিল শ্রমিকের কাজে। সৌদি আরবের জেড্ডা শহরে কিং আব্দুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে সাফ সাফাইয়ের কাজ করত। সেখানে একটি ঘটনায় ন’ মাস আগে তাঁকে সৌদি আরবের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পায়নি পরিবার। 
ওই যুবকের মা কামনুনেহা বিবি বলেন, জেল থেকে ছাড়ার পর আমার ছেলের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। আমরা জানি না আমার ছেলে এখন কী অবস্থায় আছে। আমরা চাই ছেলে ভারতে ফিরে আসুক। ছেলেকে ফেরানোর জন্য স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছি আমরা। তারাই হাই কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে। 
পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার বহু শ্রমিক বিদেশে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যাচ্ছেন। ২-৩ মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগ নেই। বহু পরিবার আমাদের দ্বারস্থ হচ্ছে। আমরা এই যুবকদের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি। হাই কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছি। তাদের মারফত খবর নেওয়া ছাড়া তো কোনও উপায় নেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ