নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: নাম উঠল না ভোটার তালিকায়। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় ক্ষুব্ধ বহু বাসিন্দা। আরামবাগ মহকুমায় এমন বহু বাসিন্দার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভোট দিলেও এবার অনেকেই ভোট দিতে বুথের ধরেকাছে যেতে পারবেন না। তাতেই তাঁরা হতাশ। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন কমিশনের বিরুদ্ধেও। ভোটার তালিকায় নাম তুলতে ঘোষণা মতো ট্রাইবুনালেও আবেদন করেছিলেন বহু মানুষ। কিন্তু ভোটের আগের দিন পর্যন্ত তাঁদের নাম ওঠেনি। অনেকের আশা, হয়তো আগামী দিনে নাম উঠবে। কিন্তু এবার বিধানসভা ভোটে তাঁদের অংশগ্রহণ করা আর হল না। তাতেই মন খারাপ বাসিন্দাদের।
খানাকুলের দুয়াদন্ড গ্রামের বাসিন্দা শেখ গিয়াসুদ্দিনের পরিবারে তিনজনের নাম বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে। অথচ তাঁর বাবা, মায়ের নাম তালিকায় রয়েছে। কিন্তু গিয়াসুদ্দিন সাহেব সহ তাঁর এক ভাই ও এক দিদি এবার ভোট দিতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রাইবুনালে অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতে আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরেও নাম ওঠেনি।’ আরামবাগ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা তৈয়েবুন্নেষা বেগম এসআইআর-এর পর ভোটাধিকার হারিয়েছেন। অথচ তাঁর পাসপোর্ট রয়েছে। বিদেশেও গিয়েছেন। নাম বাদ যাওয়ায় কিছুদিন আগে প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছিলেন। আরামবাগে ভোটের আগের দিনও তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। তিনি বলেন, ‘স্বামী ও মেয়ের নাম তালিকায় রয়েছে। কিন্তু আমার নাম বাদ।’ খানাকুলের নতিবপুরের বাসিন্দা বিভাস সামন্ত ও তাঁর বাবার নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিভাসবাবু বলছেন, ‘বৃদ্ধ বাবাও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলেন।’ এই ব্যাপারে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী বলেন, বিজেপির চক্রান্তে নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু মানুষকে বাদ দিয়ে ভোটার তালিকায় বিধানসভা ভোট করাচ্ছে।
পালটা বিজেপির পুরশুড়ার প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, এসআইআর-এর কাজ নির্বাচন কমিশন করেছে। এখানে বিজেপির ভূমিকা নেই।