নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: টানা বৃষ্টির জেরে রীতিমতো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ডোমজুড়ের সলপ ও বেগড়ি এলাকায়। শ’য়ে শ’য়ে বাড়ি এখনও জলের তলায়। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। অন্যদিকে, জমা জল নিয়ে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয় বেগড়িতে। সেখানে পুলিস ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জল যন্ত্রণায় ভুগছে সলপ ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। সলপ, ডাঁসি, পাইকান ডাঁসি, মঠবাগান, মহাবীরজলা, পাকুরিয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম এখনও জলের তলায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বেহাল নিকাশি নিয়ে একাধিকবার ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কেউ কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ। শেষমেশ এদিন সকালে জমা জল সরানোর দাবিতে সলপ ১ নম্বর পঞ্চায়েত অফিস ও ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের দলীয় অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। জমা জলের ভোগান্তি কবে মিটবে, তা অবশ্য স্পষ্ট করে বলতে পারেননি বিধায়ক। কল্যাণবাবু বলেন, ‘নিচু জায়গায় বাড়ি হওয়ার ফলে সেখানে জলবন্দি হয়ে পড়ছেন মানুষ। দিনে জল নেমে গেলেও রাতে ভারী বৃষ্টির কারণে ফের জল জমছে। গৃহবন্দি পরিবারগুলিকে পানীয় জল, খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’ ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে এলাকার জমা জলের সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক। নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য বিধায়ক তহবিলের টাকা ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এদিন ডোমজুড়ের বেগড়ির শাঁখারিদহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ ও ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের শিবির করা হয়েছিল। শিবির শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেগড়ির পঞ্চায়েত প্রধান দেবাশিস ঘোষ ও অন্যান্য আধিকারিকদের আটকে রেখে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ফলে শিবিরের কাজকর্ম লাটে ওঠে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টিতে শাঁখারিদহ, চুনির মাঠ, কেশবপুর মিলিয়ে প্রায় ২০০ বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। গৃহবন্দি অবস্থায় হয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পুকুর, নয়ানজুলি ও নিকাশি খাল সংস্কার করা হয়নি। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে যায় ডোমজুড় থানার বিশাল পুলিস বাহিনী। শেষমেশ বেলা ২টো নাগাদ ডোমজুড়ের বিডিও বরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বোঝান। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পঞ্চায়েত প্রধান দেবাশিস ঘোষ অবশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভকে যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে করেন। তাঁর দাবি, এর আগে সরকারের তরফে খাল সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। কেন নিকাশি সংস্কারের কাজ বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।