সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রবিবার থেকে শুরু হয়েছে অফলাইনে জনগণনা বা সেনসাস। কাজ করতে গিয়ে রঘুনাথপুর মহকুমার তথ্য সংগ্রহকারীরা বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়ছেন। নতুন ডিজিটাল ফরম্যাট, দীর্ঘ প্রশ্নমালা নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সরকারি সুযোগ সুবিধা হারানোর ভয়ে সাধারণ মানুষ নানা তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা চোখের সামনে তথ্য দেখলেও লিখতে গিয়ে অসুবিধায় পড়ছেন। কারণ পরবর্তীতে গ্রামের বাসিন্দারা তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে ভেবে বাধ্য হয়ে পরিবারের দেওয়া তথ্যই খাতায় লিপিবদ্ধ করছেন। জানা গিয়েছে, আবাস, টয়লেট, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, চার চাকার মতো তথ্যগুলি গোপন করা হচ্ছে। অনেক মানুষ ভুল ধারণার বশে তথ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ সঠিক অর্থনৈতিক অবস্থা প্রকাশ পেলে তাদের সরকারি অনুদান বা প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই বিশেষ তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলে তথ্যে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জনগণনা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে ৪০ প্রশ্নের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যা পরিবারগুলির সদস্যদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। দেশের জনসংখ্যা, তফসিলি জাতি, উপজাতি বাসিন্দাদের সংখ্যা, জীবনযাত্রার অবস্থা এবং আর্থ-সামাজিক কাঠামো বুঝতে তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে। জনগণনার সাথে যুক্ত এক শিক্ষক বলেন, জনগণনা করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে গুগল ম্যাপ রয়েছে। সেখানে সরাসরি কার কী রকম আবাস রয়েছে তা দেখা যায়। এছাড়া বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনতে প্যান কার্ড (আধারের সঙ্গে সংযুক্ত) দিতে হয়। সেক্ষেত্রে তথ্য গোপন করা সম্ভব নয়। তারপরও সবচেয়ে বেশি আবাসে তথ্য গোপন করা হচ্ছে। পাকা বাড়ি থাকার পরেও অনেকে অ্যাডবেস্টস, টালির বাড়ি, মেঝে কাঁচা বলে লেখাচ্ছেন। অনেকেই টয়লেট নেই বলে জানাচ্ছেন। বাড়িতে জলের সংস্থান থাকলেও জানানো হচ্ছে বাইরে থেকে জল এনে খান। শুধু তাই নয়, গাড়ি থাকা সত্ত্বেও গাড়ি নেই বলে লেখানো হচ্ছে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপের মতো তথ্য গোপন করা হচ্ছে। পরিবারের প্রধান যে তথ্য দিচ্ছে তাই লেখা হচ্ছে।



