Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলের আমলে বহু হঠাৎ বন্ধ হওয়া বিধবাভাতা চালুর আরজি

তৃণমূলের আমলে বার্ধক্যভাতা ও বিধবাভাতার টাকা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় করিমপুর এলাকার বহু মানুষ আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন

তৃণমূলের আমলে বহু হঠাৎ বন্ধ হওয়া বিধবাভাতা চালুর আরজি
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: তৃণমূলের আমলে বার্ধক্যভাতা ও বিধবাভাতার টাকা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় করিমপুর এলাকার বহু মানুষ আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন ফের তাদের সেই ভাতা চালু হওয়ার আশা করছেন এলাকার বহু উপভোক্তা।  তাঁদের অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। ষাটোর্ধ্ব অনেকের যাবতীয় নথি জমা নিয়েও ভাতা চালু হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুরের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বহু মানুষ কয়েক বছর ধরে রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বার্ধক্যভাতা বা বিধবাভাতা পেতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। কারও ক্ষেত্রে দেড় বছর, আবার কারও ক্ষেত্রে প্রায় দু’বছর ধরে টাকা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। হোগলবেড়িয়ার তারাপুর গ্রামের আশি বছরের বৃদ্ধা শুকুজান বেওয়া জানান, আগে তিনি নিয়মিত বার্ধক্যভাতার টাকা পেতেন। সেই টাকাতেই তাঁর নিত্যদিনের সংসারের অনেকটা খরচ চলত। কিন্তু প্রায় দেড় বছর আগে থেকে হঠাৎই টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, ছেলেরা আলাদা থাকে। আমি একাই থাকি। ভাতার টাকাটা খুব কাজে লাগত। এখন খুব কষ্টে দিন কাটছে। একই অভিযোগ করেছেন তারাপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা জেলেমন বিবি মহলদার। তিনি জানান, আগে মাসে ছ’শো টাকা করে ভাতা পেতেন। পরে সেই টাকা বেড়ে এক হাজার টাকা হয়। কিন্তু ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষবারের মতো ভাতার টাকা পেয়েছেন। তারপর থেকে আর কোনো টাকা পাননি। জেলেমন বিবি বলেন, ব্লক অফিসে গিয়ে জানতে পারি তালিকায় আমাদের অনেককে মৃত বলে দেখানো হয়েছে। সেই কারণে ভাতা বন্ধ হয়েছে। পরে দুয়ারে সরকার শিবিরে সমস্ত তথ্য নতুন করে জমা দিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভাতা চালু হয়নি। প্রায় নব্বই বছর বয়সী বৃদ্ধ সাদেক মণ্ডলের অবস্থাও একই। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বার্ধক্যভাতার টাকা বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি তাঁর পরিবারের। ভুক্তভোগীদের একাংশের বক্তব্য, আগের সরকার শেষ বাজেটে বিভিন্ন প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করলেও যাঁদের বার্ধক্যভাতা বা বিধবাভাতা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁদের বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা বৃদ্ধি, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও আশাকর্মীদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা হলেও বহু প্রবীণ ও বিধবার দীর্ঘদিনের সমস্যা উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছে। এদিকে সম্প্রতি সরকার বদলের পর নতুন প্রশাসনের তরফে মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর মাধ্যমে মাসিক তিন হাজার টাকা, শিক্ষিত বেকার যুবকদের ভাতা এবং বার্ধক্য ও বিধবাভাতার পরিমাণ এক হাজার থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। উপভোক্তাদের দাবি, যাঁরা জীবিত রয়েছেন এবং আগে নিয়মিত ভাতা পেতেন, তাঁদের নাম পুনরায় যাচাই করে দ্রুত ভাতা চালু করা হোক। বয়স্ক মানুষদের এই সামান্য টাকাটাই বেঁচে থাকার ভরসা। করিমপুর ১ বিডিও অনিরুদ্ধ মণ্ডল বলেন, আগের সকল প্রকল্প চালু রাখার কথা জানানো হয়েছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কি হবে তার কোনো নির্দেশিকা আসেনি। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ