নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই দেবীপক্ষে চতুর্থী শুরু হয়ে গিয়েছে। আর চতুর্থী থেকেই তিন জেলায় পুরোদমে পুজো উদ্বোধন শুরু হয়েছে। আলোর রোশনাইয়ে ভাসছে অনেক এলাকা। সেইসঙ্গে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে একগুচ্ছ পুজোর উদ্বোধন হয়। শুধু তাই নয়, বিগ বাজেটের বিভিন্ন মণ্ডপে বেশ ভিড় হয়। এদিন পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি ১৩টি পুজোর উদ্বোধন করেন। সন্ধ্যার পর পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে সমাজশিক্ষা কেন্দ্র থেকে হলদিয়ার দুর্গাচকের মিলন সঙ্ঘের মণ্ডপের উদ্বোধন হতেই দর্শনার্থীদের ভিড় জমে যায়। মেদিনীপুর শহরের গণপতিনগর থেকে খড়্গপুর শহরে আমরা সবাই, নারায়ণগড়ের নান্দনিক ক্লাব সহ বিভিন্ন জায়গায় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের বেশ ভিড় ছিল। ঝাড়গ্রাম শহরের মণ্ডপেও দর্শনার্থীদের ভালো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বৃহস্পতিবার হলদিয়ার মিলন সঙ্ঘের পুজোর উদ্বোধনে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বাসুদেবপুর ক্ষুদিরাম স্মৃতি সঙ্ঘ, পাঁশকুড়া ক্যানেলবাজার, নন্দকুমারের বাড়বহিচবেড়িয়ায় নবজারণ সঙ্ঘ সহ বিভিন্ন পুজোর উদ্বোধন হয়। কাঁথি ক্যানেলপাড়ে রক্ততিলক ক্লাব, মেচেদার আরাধ্যার পুজো এদিন উদ্বোধন হয়েছে। তমলুকে রাজবাড়ি ময়দানে আদি তাম্রলিপ্ত সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো প্রাঙ্গণে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্টলের উদ্বোধন হয়। পুজোর প্রতিদিন আইনি পরিষেবা দেওয়া হবে।
কাঁথির ইয়ুথগিল্ড, সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড দুর্গোৎসব, চৌরঙ্গী, শেরপুর মহিলা পরিচালিত সর্বজনীনের মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। কাঁথি শহরের বিভিন্ন এলাকা আলোর রোশনাইয়ে ভাসছে। এগরাতেও বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার নিউ দীঘা হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও নিউ দীঘা অধিবাসীবৃন্দের পুজো মণ্ডপের দ্বারোদঘাটন করেন সভাধিপতি উত্তম বারিক। এলাকার মানুষজনের পাশাপাশি পর্যটকদের অনেকেই পুজো মণ্ডপে ভিড় করেন।
এদিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ন’টি পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারমধ্যে পুলিশ লাইনস হাউজিং দুর্গাপুজো কমিটির পুজোও ছিল। ওই পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার সহ অন্যান্য অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নারায়ণগড় ব্লকের নান্দনিক ক্লাব, ডেবরার বিধাননগর কামাখ্যা পুজো কমিটি, গড়বেতা-২ ব্লকে গোয়ালতোড় ভাতৃসঙ্ঘ, কেশপুর ব্লকের ঝেঁতলা ঐক্য সম্মিলনী, সবং ব্লকের খাজুরি বালিচক সর্বজনীনও রয়েছে।
ঝাড়গ্রামেও দেবীপক্ষের সূচনা থেকে বেশকিছু পুজোর উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। স্কুলে ছুটি পড়ে যাওয়ায় মণ্ডপে কচিকাঁচাদের ভিড় বাড়ছে। তবে, আবহাওয়ায় উন্নতি হতে বেশিরভাগ মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। শহরের বিগ বাজেটের পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। পাশাপাশি শেষমুহূর্তের কেনাকাটাও পুরোদমে চলছে।