Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

যুদ্ধ জল্পনায় হ্যারিকেন বের করে কেরসিন তেল কিনছেন অনেকেই

যুদ্ধ জল্পনায় হ্যারিকেন বের করে কেরসিন তেল কিনছেন অনেকেই
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: যুদ্ধের কোনও সতর্কতা নেই। তবু যুদ্ধ জল্পনার উত্তাপ ধাক্কা দিয়েছে মহেশতলা, বজবজ, পুজালি, নোদাখালি, বিষ্ণুপুর, চম্পাহাটির মানুষের মনে। চুপ করে কেউ বসে নেই। যে কোনও সময় সন্ধ্যার পর ব্ল্যাক আউট হওয়ায় আশঙ্কায় ঘরে ঘরে হ্যারিকেন, লম্ফ, লণ্ঠন সাফসুতরো করার কাজ জোরকদমে চলছে। অনেকে নতুন হ্যারিকেন কিনছেন। শুধু তাই নয়, চড়া দরে লিটার প্রতি ৯৫ থেকে ১০৫ টাকায় কেরোসিন তেল কেনার হিড়িক শুরু হয়েছে। এই সুযোগে কেরোসিন তেলের বিক্রিও অনেক বেড়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। আচমকা অন্ধকার হলে দিশাহারা হতে হবে না। মহেশতলা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের জোতশিবরামপুরের শুকদেবপুর শহরতলির অংশ। সত্তরোর্ধ্ব সুনীল মণ্ডল দীর্ঘদিন এলাকায় বাস করছেন। চীন-ভারত যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে ভারত-বাংলাদেশ যুদ্ধের সময়ের সাক্ষী। সুনীলবাবু বললেন, প্রতিদিন মুখে মুখে শুনছি সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে যাবে। এজন্য টেনশন হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে কাঠের বাক্স থেকে হ্যারিকেন ও একটা লণ্ঠন বের করেছি। অনেকদিন ধরে বাক্সবন্দি ছিল। সাফসুতরো করেছি। আমাদের এখানে ১০৫ টাকা লিটার কেরোসিন তেল। অনেকটা গায়ে লাগলেও কিনতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। সুনীলবাবু বলেন, এর আগে যুদ্ধের উত্তাপ দেখেছি। খুব আতঙ্ক চারপাশে। উপর থেকে যুদ্ধ বিমান চলে যাওয়ার গর্জন। ব্ল্যাক আউট দেখেছি। সাইরেন বাজত যখন তখন। চীন-ভারতের যুদ্ধের সময় আমার বয়স ১৫ হবে। তখন টালিগঞ্জের সাধন মার্কেটের কাছে এক রেস্তরাঁয় কাজ করি। ওই সময় জানালা ও বাড়ির কোথাও কোনও ফাঁক রাখা যেত না। চট দিয়ে ঢেকে রাখতে হতো। একদিন যেখানে থাকতাম সেই বাড়ির জানালা খোলা ছিল। হুইসেল বাজাতে বাজাতে পুলিস এসে গেল। এরপর দ্রুত বন্ধ করে দিতে হল জানালা। বজবজের রঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিয়ে হয়েছিল ভারত বাংলাদেশ যুদ্ধের সময়। সন্ধ্যার পর গোটা বাড়ি ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। যাতে ভিতরের আলো বাইরে বেরতে না পারে। রঞ্জিতবাবুও হ্যারিকেন, তেল সংগ্রহ করেছেন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ