Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেপালে চোখের চিকিৎসা নিয়ে চিন্তায় অনেক রোগী

প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের অশান্তির প্রভাব পড়েছে কান্দি মহকুমা এলাকাতেও। অনেকেই সেখানকার হাসপাতালগুলিতে চোখের চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

নেপালে চোখের চিকিৎসা নিয়ে চিন্তায় অনেক রোগী
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের অশান্তির প্রভাব পড়েছে কান্দি মহকুমা এলাকাতেও। অনেকেই সেখানকার হাসপাতালগুলিতে চোখের চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্রুত শান্তি কামনা করছেন রোগীর পরিজনরা। বহু বছর ধরেই কান্দি মহকুমা এলাকার বাসিন্দারা চোখের চিকিৎসা করাতে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে যান। স্থানীয়দের দাবি, উন্নত চিকিৎসার জন্য বহু বছর ধরে এই এলাকার বাসিন্দারা নেপালের বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালে যান। অতি সহজেই তাঁরা এখান থেকে কয়েকদিনের মধ্যে চিকিৎসা করে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। চিকিৎসার জন্য যাবতীয় বুকিং, কথাবার্তা, নির্দেশ সবই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আবার অনেকে স্থানীয় দালাল মারফতও চিকিৎসা করাতে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করেন। এমনকী, চিকিৎসার জন্য ভারতীয় টাকার মাধ্যমে লেনদেন করা যায়। রোগীর পরিবার বীরভূমের রামপুরহাট স্টেশনে কলকাতা যোগবাণী এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে যাতায়াত করেন।

Advertisement

খড়গ্রাম উত্তর ব্লক তৃণমূল সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, এই এলাকার অনেক রোগী নেপালে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করেন। বলা ভালো, প্রতি সপ্তাহে এই ব্লক এলাকা থেকে কয়েকজন করে নেপালের  চক্ষু হাসপাতালগুলিতে যান। তবে সম্প্রতি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অশান্তির জেরে বুকিং থাকা সত্ত্বেও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন রোগীর পরিজনরা। খড়গ্রামের মণ্ডলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জসিমউদ্দিন রহমান বলেন, আগামী শুক্রবার নেপালের একটি চক্ষু হাসপাতালে আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে। কিন্তু অশান্তির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ওখানে এখন কোনওভাবেই যাওয়া যাবে না। তাছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কোনওভাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। তাই আপাতত নেপাল যাওয়া স্থগিত রাখতে হচ্ছে। কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে হিজল এলাকা থেকে তিনজন রোগীর চোখের চিকিৎসার জন্য নেপালের একটি হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মনে হচ্ছে, এমন অবস্থায় সেখানে যাওয়া ঠিক হবে না। আমরা চাই দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক হোক।
এদিকে নেপালের ওই হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার জন্য অনেক স্থানীয় দালালও রয়েছে বলে দাবি। ভরতপুর-১ ব্লকের আঙারপুর গ্রামের জহিদুল শেখ বলেন, নেপালের চোখের হাসপাতালগুলিতে বিশ্বমানের চিকিৎসা হয়। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক রোগীকে সেখান থেকে চিকিৎসা করিয়ে এনেছি। সম্প্রতি আরও আটজনকে ওখানে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অশান্ত পরিস্থিতির জন্য সব বাতিল করা হয়েছে। যাঁদের খুব সমস্যা রয়েছে, তাঁদের স্থানীয় ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ