নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে এদেশের সোনা ও হীরের গয়না রপ্তানি ব্যবসা রীতিমতো সংকটে পড়েছে। একাধিক সংস্থা গয়না তৈরির ব্যবসা এদেশ থেকে আরব দুনিয়ায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কারণ, চড়া শুল্ক মিটিয়ে প্রতিযোগিতার বাজারে মার্কিন মুলুকে গয়না রপ্তানির ব্যবসা মোটেই লাভজনক হবে না। মনে করছে তারা। এদিকে মহারাষ্ট্র, গুজরাত, কর্ণাটক বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতে হীরে ও সোনার গয়না তৈরির যে হাবগুলি আছে, সেখানকার বেশিরভাগ কারিগরই বাঙালি। ওই রাজ্যগুলিতে যাঁরা পরিযায়ী স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই কাজ হারাবেন। ফলে তাঁরা ফিরে আসতে বাধ্য হবেন এরাজ্যে। তাতে সামগ্রিক পরিস্থিতি যে মোটেই ভালো হবে না, তা মানছেন স্বর্ণকাররা। তাঁদের দাবি, সরকার এখনই তাঁদের বিকল্প আয়ের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করুক।
বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীন সংস্থা ন্যাশনাল জেমস জুয়েলারি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর টগরচন্দ্র পোদ্দার বলেন, সোনার দাম যেভাবে আকাশ ছুঁয়েছে, তাতে স্বর্ণকার ও ছোট ব্যবসায়ীরা এমনিতেই অত্যন্ত সংকটের মধ্যে রয়েছেন। ব্যবসা করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে অনেকের পক্ষেই। কারণ, ছোট দোকানগুলিতে গয়নার চাহিদা কমে গিয়েছে অনেকটাই। এই পরিস্থিতিতে যদি কর্মীরা এরাজ্যে ফিরে আসেন, তাহলে সমস্যা অনেকটাই বেড়ে যাবে। তার কারণ, পরিযায়ী শ্রমিকরা সোনার কাজেই দক্ষ। এখানে এসে নতুন করে কোনও সংস্থায় কারিগর হিসেবে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই রোজগারের তাগিদে তাঁরা বেছে নেবেন স্বর্ণ ব্যবসাকেই। টগরচন্দ্র পোদ্দার মনে করেন, সেক্ষেত্রে এরাজ্যে সোনার ব্যবসার পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের কাছে তাঁদের আর্জি, এইসব পরিযায়ী স্বর্ণকারদের জন্য এখন থেকেই বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিক কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। তা না-হলে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই মেদিনীপুর থেকে সোনার কাজে ভিন রাজ্যে যাওয়া বহু কারিগর অত্যন্ত বিপদে পড়ে যাবেন।