Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তোলাবাজি-সরকারি জমি দখলে অভিযুক্ত মণ্ডল স্তরের বহু নেতা! ব্যাপক ক্ষোভ নীচুতলায়, পানিহাটিতে বিপাকে বিজেপি নেতৃত্ব

পানিহাটিতে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গেরুয়া শিবিরে অরাজকতা বেড়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

তোলাবাজি-সরকারি জমি দখলে অভিযুক্ত মণ্ডল স্তরের বহু নেতা! ব্যাপক ক্ষোভ নীচুতলায়, পানিহাটিতে বিপাকে বিজেপি নেতৃত্ব
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সবে এক মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। তারমধ্যেই সরকারি জমি দখল, প্রোমোটারকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায়, বিজয় মিছিল ও পিকনিকের নাম করে তোলাবাজি সহ একের পর এক অভিযোগ উঠেছে বিজেপির মণ্ডল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। বিরোধীরা নয়, এই অভিযোগ তুলছেন খোদ গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা। শুধু রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তথ্যপ্রমাণ পেশ করে তাঁরা ক্ষান্ত হননি, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তা পোস্ট করে ঝড় তুলেছেন দলের অন্দরে। এমনকি, হুজ্জুতির হাত থেকে তৃণমূলের নেতাদের বাঁচাতে ‘প্রোটেকশন মানি’ নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে মণ্ডল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। এনিয়ে গেরুয়া শিবিরে জলঘোলা শুরু হয়েছে। জেলার একাধিক নেতার দাবি, পানিহাটিতে নেতৃত্বের সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানে চরম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Advertisement

পানিহাটির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরীমোহন ব্যানার্জি রোডে বেঙ্গল কেমিক্যাল কারখানা সংলগ্ন সরকারি জমি বেদখল হচ্ছে। ড্রেনের উপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে সরকারি জায়গা দখল চলছে বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মীদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ছবি পোস্ট করে বিচার চাইছেন। অভিযোগ, দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মদতে এই কাজ চলছে। জানা গিয়েছে, সেখানে নাকি দোকান তৈরি করা হবে। পানিহাটি ১ নম্বর মণ্ডলের এক মহিলা নেত্রীর হুমকি ও টাকা চাওয়ার কল রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে। তাতে শোনা যাচ্ছে, ওই নেত্রী ও তাঁর স্বামী একযোগে এক প্রোমোটারকে ছাপার অযোগ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। শেষমেশ তাঁর কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। এমনকি, টাকা না দিলে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ওই মণ্ডলেই বিজয় উৎসবের নাম করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ওই টাকা দিয়ে মাছ কেনা হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেই ভিডিয়োও ভাইরাল হয়েছে। এমন সমস্ত ভিডিয়ো রাজ্য নেতৃত্বের কাছে দলেরই একাংশ পৌঁছে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পানিহাটির রাজনীতিতে নতুন শব্দের আমদানি হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলাস্তরের এক নেতা। ওই শব্দ হলো ‘প্রোটেকশন মানি’। অভিযোগ, তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের থেকে প্রচুর টাকা নেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের ওই নেতারা রাজনৈতিক ও পুলিশি ঝামেলা থেকে বাঁচতে তাঁদের দাবি মতো টাকা দিয়েছেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিহাটি ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতির বিরুদ্ধে এমন বহু অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে শো’কজ করেছে। বিজেপির জেলাস্তরের এক আদি নেতা বলেন, পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মানুষ। শহরতলির বাকি বিধায়কদের মতো এলাকার রাশ তিনি নিজের হাতে নেননি। ফলে বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলা, কারওর সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা, তোলাবাজি, সরকারি জমি দখলের মতো ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। বিজেপির উত্তর শহরতলির জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় পানিহাটিতে নেতৃত্বহীনতার কথা মানতে চাননি। বলেন, মানুষ আমাদের আশীর্বাদ করেছেন। সেই জনমতকে সম্মান জানাতে হবে। কোনো অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না। দল একাধিক জায়গায় কড়া পদক্ষেপে নিয়েছে। আগামী দিনে কেউ কোনো অন্যায় করলে ছাড় পাবে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ