নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পুরু পর্দা দিয়ে ঘেরা গুমটি ঘর। ভিতরে গিজ গিজ করছে লোকজন। প্রত্যেকের হাতে ৫০০, ২০০ আর ১০০ টাকার নোট। সামনের একটি টেবিলের উপর রাখা কম্পিউটার। উপরে সাঁই সাঁই ঘুরছে সিলিং ফ্যান। আর সেই গুমটি ঘরের ভিতরে উড়ছে নগদ টাকা। ময়নার বলাইপণ্ডা ব্রিজ, অন্নপূর্ণা বাজার, খেজুরতলা, শ্রীরামপুর ব্রিজ, ময়না বৃহস্পতিবারের বাজার সংলগ্ন মোট আট জায়গায় এভাবে চুটিয়ে বেআইনি অনলাইন লটারি লোটোর কারবার চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ময়না থানার পুলিসকে জানিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছে না। এই অবৈধ কারবারীদের সঙ্গে পুলিসের একাংশের গোপন আঁতাতে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এলাকার মানুষজন।
ময়না থানা এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবক’টি বাজারে এভাবে সকাল থেকেই ধূপ জ্বালিয়ে লোটোর দোকান খোলা হচ্ছে। বিকালের পর থেকেই কাউন্টারের সামনে ভিড় বাড়ছে। একটা সময় সাহেব, বিবি, গোলামে ভাগ্য নির্ধারণ হতো খেলোয়াড়দের। এখন সেসব অতীত। কম্পিউটারের যুগে নিজস্ব সফ্টওয়ারের ইংরেজি কোডে ঝুলে থাকছে ভাগ্য। ভাগ্য বদলের আশায় ভিড় বাড়াচ্ছে এলাকার যুবক থেকে খেটে খাওয়া মানুষজন। টিকিট কেটে কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভাগ্য পরীক্ষায় এই খেলায় টাকা খোয়ানোর পর হতাশ হলে নিমেষের মধ্যে চলে আসছে মাদক মেশানো ট্যাবলেট। ময়নার প্রায় সব কাউন্টারের এরকম মাদক মেশানো ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকার বাসিন্দারা চাইছেন, অবৈধ এই কারবারে অবিলম্বে রাশ টানা হোক। এর আগে ভগবানপুর, নন্দকুমার, তমলুক, কোলাঘাট প্রভৃতি থানা এলাকায় লোটোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় ওই অবৈধ কারবার বন্ধ। কিন্তু, ময়নায় অনলাইন লোটোর বিরুদ্ধে অভিযান হয়নি। হাওড়ার বাগনান থেকে লোটোর এক কিংপিন ময়নার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ময়নার বলাইপণ্ডা সহ একাধিক বাজার কমিটির সঙ্গে পুলিসের বৈঠক চলাকালীন লোটো বন্ধে আর্জি জানানো হচ্ছে। কিন্তু, কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
এনিয়ে ময়না পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা ব্লক তৃণমূল সভাপতি সন্দীপব্রত দাস বলেন, এই থানার বিভিন্ন জায়গায় অনলাইন লোটোর কারবার বেড়েছে। তাতে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
বিষয়টিতে অবিলম্বে পুলিসের হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন। ছাত্র-যুবরাও ওই নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে সার্বিকভাবে এলাকার ক্ষতি হচ্ছে। এনিয়ে ময়না থানার ওসি সোমনাথ শীটকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। প্রতীকী চিত্র