ব্রতীন দাস, মালদহ: ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন বা ডিএসএ’তে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগে এবার তদন্ত শুরু করল মালদহ জেলা প্রশাসন। সূত্রের খবর, প্রতি বছর অডিট না হওয়া, বার্ষিক রিটার্ন জমা না পড়া সহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে ডিএসএ’র বিরুদ্ধে। যা নিয়ে সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে চিঠি ধরানো হয় মালদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই ডিএসএ’র সম্পাদক হিসাবে উত্তর দিয়েছেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হতে পারছে না প্রশাসন। ফলে স্পষ্ট হচ্ছে পদক্ষেপের ইঙ্গিত।
এনিয়ে কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, আমাদের কাছে যে বিষয়গুলি জানতে চাওয়া হয়েছিল, ব্যাখ্যা সহ তার উত্তর দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে যে খামতি হয়েছে, তারও কারণ বলেছি আমরা। সেক্ষেত্রে ডিএসএ পেনাল্টি দিতেও রাজি বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনকে। কোষাধ্যক্ষের কাছেই সমস্ত ফাইলপত্র থাকত। আমরা বেশকিছু ফাইল পাইনি। ফলে কোথায় কী আর্থিক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, আমার পক্ষে তা বোঝা মুশকিল। তাছাড়া আমার কাছে মেমোরান্ডাম ছিল না। ফলে সংস্থার বাই-ল (উপবিধি) কী রয়েছে, সেটাও জানা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বারবার কোষাধ্যক্ষকে ডিএসএ›তে আসতে বলা হলেও তিনি আসেননি। যার কারণে সাধারণ সভা ডেকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। তবে শেষমেশ বাধ্য হয়ে আমরা তাঁকে আর্থিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছি।
যদিও মালদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা দিলীপ দে পালটা তোপ দেগেছেন কৃষ্ণেন্দুর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে আমি অনেকদিন ধরে ডিএসএ’তে যাচ্ছি না। তবে আমার সময়ে সব ঠিকই ছিল। যদিও ডিএসএ’র বিল্ডিং সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। কারণ, ওই বিল্ডিংয়ে দোকানঘর ভাড়া কিংবা লিজের বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। এসব নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, কৃষ্ণেন্দুবাবু একাই নিতেন। আর আমি ফাইলপত্র সরিয়েছি, এমন অভিযোগ মিথ্যে। কোষাধ্যক্ষের অভিযোগ উড়িয়ে ডিএসএ›র সম্পাদকের অবশ্য বক্তব্য, কোষাধ্যক্ষ যদি কিছুই না জানবেন, তাহলে চেকে তাঁর সই হল কীভাবে? আমি তো ভয় দেখিয়ে তাঁকে চেকে সই করতে বাধ্য করিনি। তিনি যদি এতটাই স্বচ্ছ হবেন, তাহলে বারবার ডাকা সত্ত্বেও আসছেন না কেন? কেন সমস্ত ফাইলপত্র সবটা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না?
অভিযোগ, প্লেয়ারদের এন্ট্রি ফি থেকে জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টের আয়োজন কিংবা মাঠের ঘাস কাটা সবেতেই আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। কোথাও জমা পড়া টাকার হিসাব নেই, কোথাও আবার বিল অনেক বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। যার সমর্থনে কোনো নথিপত্র নেই।
অতিরিক্ত জেলাশাসক ভাস্কর মজুমদার বলেন, ডিএসএ’তে অডিট বকেয়া। বার্ষিক রিটার্ন জমা হয়নি। এছাড়া আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। তার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর এসেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।